12 C
Munich
Sunday, May 17, 2026

ফিঞ্চ-বেহরেনডর্ফ নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিতে অস্ট্রেলিয়া

Must read

প্রথমে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের সেঞ্চুরি ও পরে পেসার জেসন বেহরেনডর্ফের বোলিং নৈপুণ্যে দ্বাদশ বিশ্বকাপের ৩২তম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৬৪ রানে হারালো অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে ৭ খেলায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে আবারো টেবিলের শীর্ষে উঠলো অস্ট্রেলিয়া। একই সাথে এবারের টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলো ফিঞ্চের দল। অপরদিকে, এই হারে ৭ খেলায় ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থস্থানেই থাকলো ইংল্যান্ড।
লর্ডসে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার। ২২ দশমিক ৪ ওভারে ১২৩ রানের জুটি গড়েন তারা। ৭১ বল মোকাবেলা করে দলের অর্ধশতক পূর্ণ করেন তারা। তবে মাত্র ৩৬ বলে পরের ৫০ রান সংগ্রহ করেন ফলে ১৭ দশমিক ৫ বলে শতরানের সংগ্রহ পেয়ে যায় অসিরা। কিন্তু এময় দুই ওপেনারের কেউই হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিতে পারেননি। অর্ধশতকের খুব কাছেই ছিলেন তারা। ফিঞ্চ ৪৮ ও ওয়ার্নার ৪৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।
দলের স্কোর তিন অংকে পৌঁছে দিয়েও রানের চাকা সচল রেখেছিলেন ফিঞ্চ-ওয়ার্নার। কিন্তু দলীয় ১২৩ রানে বিচ্ছিন্ন হতে হয় তাদের। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২০তম ও এবারের আসরে তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে আউট হন ওয়ার্নার। ৬টি চারে ৬১ বলে ৫৩ রান করা ওয়ার্নারকে আউট করেন ইংল্যান্ডের অফ-স্পিনার মঈন আলি। এই ইনিংসের ফলে এবারের আসরে নিজের রান সংখ্যা ৫০০তে নিয়ে গেলেন ওয়ার্নার।
ওয়ার্নার থামলে উসমান খাজাকে নিয়ে দলকে রান উপহার দিচ্ছিলেন ফিঞ্চ। পাশাপাশি নিজে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু জুটিতে ৫০ রান আসার পর বিদায় নেন খাজা। ইংল্যান্ডের পেসার বেন স্টোকসের বলে বোল্ড হবার আগে ২৯ বলে ২৩ রান করেন তিনি। খাজার বিদায়ের পর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম ও বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির স্বাদ নেন ফিঞ্চ।
৩৫তম ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার পরের বলেই উইকেট পতনের তালিকায় নাম তুলেন ফিঞ্চ। ইংল্যান্ড পেসার জোফরা আর্চারের বলে আউট হন তিনি। ১১টি চার ও ২টি ছক্কায় ১১৬ বলে ১০০ রান করেন ফিঞ্চ। ফলে এবারের আসরে ফিঞ্চের রান গিয়ে দাড়ালো ৪৯৬ রানে। তাতে সবচেয়ে বেশি রানের দিক দিয়ে তৃতীয়স্থানে নেমে গেলেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। কারণ ওয়ার্নার ৫০০ ও ফিঞ্চ ৪৯৬ রান করেছেন। সাকিবের রান ৪৭৬।
দলীয় ১৮৫ রানে ফিঞ্চ ফিরে যাবার পর অস্ট্রেলিয়ায় রান তোলায় ভাটা পড়ে। দুই ওপেনার ফিঞ্চ-ওয়ার্নার ১২৩ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহে ভিত এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা পুরোপুরিভাবেই ব্যর্থ হন।
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৮ বলে ১২ ও মার্কাস স্টোয়িনিস ৮ রান করে থামেন। তবে এক প্রান্ত ধরে খেলছিলেন সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। কিন্তু তিনিও ৪৬তম ওভারে বিদায় নেন। ৫টি চারে ৩৪ বলে ৩৮ রান করেন স্মিথ। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ৩শ’ রানের সংগ্রহ পাবার আশা শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির ঝড়ো ব্যাটিং-এ ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৮৫ রানের সংগ্রহ পায় অস্ট্রেলিয়া। সাত নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ৫টি চারে ২৭ বলে অপরাজিত ৩৮ রান করেন ক্যারি। ইংল্যান্ডের ক্রিস ওকস ৪৬ রানে ২ উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ২৮৬ রানের টার্গেট ইংল্যান্ডের জন্য কঠিন ছিলো না। কিন্তু ব্যাট হাতে নেমে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ে ইংলিশরা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ওপেনার জেসন রয়কে হারায় তারা। অস্ট্রেলিয়ার পেসার জেসন বেহরেনডফের বলে বোল্ড হয়ে শূন্য হাতে প্যাভিলিয়নে ফিরেন ইংল্যান্ডের ওপেনার জেমস ভিন্স।
শুরুর ধাক্কাটা সামাল দেয়ার আগেই ইংল্যান্ড শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক। ইংলিশদের মেরুদন্ড, অর্থাৎ মিডল-অর্ডারে তাদের সেরা দুই ব্যাটসম্যান জো রুট ও অধিনায়ক ইয়োইন মরগানকে দ্রুতই বিদায় দেন স্টার্ক। রুট ৮ ও মরগান ৪ রান করেন। ফলে ২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় পড়ে যায় ইংল্যান্ড। এই অবস্থায় বিপদ আরও বাড়ে তাদের।
দলীয় ৫৩ রানে ফিরে যান এক প্রান্ত আগলে রাখা ওপেনার জনি বেয়ারস্টো। বেহরেনডর্ফের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ২৭ রানে আউট হন তিনি। ফলে ১৪তম ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে মহাবিপদেই পড়ে স্বাগতিকরা।
এ অবস্থা থেকে ঘুড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলো ইংল্যান্ড। দুই ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস ও উইকেটরক্ষক জশ বাটলার পঞ্চম উইকেটে বড় জুটির চেষ্টা করেন। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের লাইন-লেন্থকে বুঝে উঠে ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে রান জড়ো করতে থাকেন তারা। এই জুটির কল্যাণে শতরানের কোটা পেরিয়ে যায় ইংলিশরা।
জমে যাওয়া স্টোকস-বাটলার জুটি ভাঙ্গতে বোলিং-এ দু’প্রান্ত দিয়ে বারবার পরিবর্তন আনেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ফিঞ্চ। অবশেষে মার্কাস স্টোয়িনিসের কল্যাণে ২৮তম ওভারে এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরাতে পারে অসিরা। ২৭ বলে ২৫ রান করা বাটলারকে আউট করেন স্টোয়িনিস। এই জুটি দলকে ৭১ রান উপহার দেন।
বাটলারকে হারালেও খেই হারিয়ে ফেলেননি স্টোকস। ক্রিস ওকসকে নিয়ে আবারো বড় জুটির চেষ্টা করেন তিনি। এর মাঝে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৮তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন স্টোকস। এতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেন তিনি। পাশাপাশি ওকসের সঙ্গতে আবারো বড় জুটির পথে হাটতে থাকেন স্টোকস। এখানেও সাফল্য পেয়েছেন স্টোকস-ওকস। জুটিতে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তারা।
কিন্তু অর্ধশতকের পরই এই জুটিকে বিচ্ছিন্ন করে স্টার্ক। সেঞ্চুরির স্বপ্নে থাকা স্টোকসকে ব্যক্তিগত ৮৯ রানে বোল্ড করেন স্টার্ক। ১১৫ বলের ইনিংসে ৮টি চার ও ২টি ছক্কা হাকান এ অলরাউন্ডার।
দলীয় ১৭৭ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে স্টোকসের বিদায়ের পর ইংল্যান্ডের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে ওকস ২৬ ও আদিল রশিদ ২৫ রান করলেও ৩২ বল বাকী থাকতে ২২১ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার বেহরেনডর্ফ ৪৪ রানে ৫টি ও স্টার্ক ৪৩ রানে ৪ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ফিঞ্চ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
অস্ট্রেলিয়া : ২৮৫/৭, ৫০ ওভার (ফিঞ্চ ১০০, ওয়ার্নার ৫৩, স্মিথ ৩৮, ক্যারি ৩৮*, ওকস ২/৪৬)।
ইংল্যান্ড : ২২১/১০, ৪৪.৪ ওভার (স্টোকস ৮৯, বেয়ারস্টো ২৭, ওকস ২৬, বেহরেনডর্ফ ৫/৪৪)।
ফল : অস্ট্রেলিয়া ৬৪ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : অ্যারন ফিঞ্চ (অস্ট্রেলিয়া)।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article