6.3 C
Munich
Monday, May 18, 2026

২০ মাস পর কলমাকান্দায় অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশের পরিচয় উদ্ধার

Must read

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: দীর্ঘ ২০ মাস পর অবশেষে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার বানাইকোনা গ্রামের বিলে অর্ধ-গলিত অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশের পরিচয় উদ্ধার এবং হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহ।

পিবিআই ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক বুধবার নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের জানান, ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর দুপুর আনুমানিক ৩ টার দিকে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার বানাইকোনা গ্রামের সামনের বিলে ধানের ক্ষেত থেকে অজ্ঞাতনামা মুখ বিকৃত অর্ধ-গলিত মহিলার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই কলমাকান্দা থানায় এস আই আব্দুল গনি বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় পরবর্তী সময় পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের নির্দেশে ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী মামলাটি ময়মনসিংহের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআই’য়ের ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। পিবিআই ডিএনএ পরীক্ষা করে অজ্ঞাতনামা নারীর প্রকৃত পরিচয় সনাক্ত করে। অজ্ঞাত ওই নারীর নাম কোহিনুর আক্তার (৩০)। তিনি কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের সৌলজান গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে এবং একই উপজেলার বানাইকোনা গ্রামের মোঃ ফজলু মিয়ার (৪০) স্ত্রী।

পরিচয় সনাক্তের পর ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের নানা দিক বেড়িয়ে আসতে থাকে। তদন্তকালে স্বামী ফজলু মিয়ার সকল কাজের সহযোগী একই গ্রামের মৃত আকবর আলীর পুত্র আলাল উদ্দিনের (২৫) নাম উঠে আসে। এরই প্রেক্ষিতে ২রা জুলাই মঙ্গলবার গভীর রাতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে আলাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আলাল উদ্দিন কোহিনুরকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পিবিআই আসামি আলাল উদ্দিনকে গতকাল বুধবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমার আদালতে হাজির করে। সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। জবানবন্দী শেষে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, গত ২০১৫ সালে বানাইকোনা গ্রামের মোহাম্মদ মৌলভীর পুত্র ফজলু মিয়া সাথে সৌলজান গ্রামের আবুল কাশেমের কন্যা কোহিনুরে আক্তারের বিয়ে করেন। এর আগে ফজলু আরো তিনটি বিয়ে করেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। সুচতুর ফজুল মিয়া বিগত ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় কোহিনুরকে পাঁচগাও থেকে বানাইকোনা নিয়ে আসার জন্য আলাল উদ্দিনকে পাঠায়। আলাল উদ্দিন কৌশলে কোহিনুরকে তার মোটর সাইকেলে তুলে রাত ১১টার দিকে বানাইকোনা গ্রামের আজিজুলের ধান ক্ষেতে নিয়ে আসে। সেখানে ফজলু ও তাঁর সহযোগীরা কোহিনুরের হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে তার লাশ যাতে কেউ চিনতে না পারে তার জন্য কোহিনুরের দেহ ও মুখ মন্ডল এলোপাথারি কুপিয়ে বিকৃত করে ধান খেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তিনি আরো জানান, মূল আসামী ফজলু ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article