মাসুদ উল হাসান ॥ দীর্ঘ ১০ বছর পর ইউপি চেয়ারম্যানের প্রচেষ্টায় জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ৭ নং মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। রোববার ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন জাহান লিজা। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের মধ্যেও ছিলো খুশির আমেজ।
জানা যায়,গত দুই মেয়াদে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা ও তার ছেলে জাহিদুল ইসলাম জেহাদ। দুজনই বকশীগঞ্জ পৌর শহরে নিজ বাসায় ও জব্বারগঞ্জ বাজারে ভাড়াটে ঘরে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালিয়েছেন। ফলে প্রায় ৩ কোটি টাকার ইউপি ভবন অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকে ১০ বছর। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে ভবনটি। ভবনের বেশির ভাগ দরজা জানালা খোয়া যায়। ভবন জুড়ে বাসা বাধেঁ মৌ-মাছি। ময়লা আবর্জনার ভাগাড় ও গোশালয়ে পরিনত হয় ইউপি ভবন। এলাকাবাসী একাধিকবার বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিলেও কোন কাজ হয়নি। এই নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ছিলো দীর্ঘদিনের। গত ইউপি নির্বাচনে আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক তার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষনা দিয়েছিলেন ইউপি’র সকল কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদেই হবে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরই পরিত্যক্ত ভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেন সিদ্দিকুর রহমান। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংস্কার কাজ শেষ করে পরিপাটি করে তোলেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান,গত প্রায় ১০ বছর পরিষদে আসেননি সাবেক চেয়ারম্যান-মেম্বাররা। এতে গোশালয়ে পরিনত হয়েছিল পরিষদ ভবন। বর্তমান চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান কথা রেখেছেন। এতে আমরা অনেক খুশি।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক বলেন,নির্বাচনের সময় কথা দিয়েছিলাম মেরুরচর ইউনিয়নের সকল কার্যক্রমই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে পরিচালিত হবে। ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে কোন অফিস থাকবে না। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করে পরিষদে বসার পরিবেশ তৈরি করেছি। নিয়মিত পরিষদে বসে কার্যক্রম পরিচালনা করবো। ইউপি সদস্যদেরকেও বলে দিয়েছি নিয়মিত অফিসে বসতে।


