সুমন ভৌমিকঃ নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা থানার শ্যামগঞ্জ ঘোড়ার বাজার এলাকায় প্রতি রাতে অবৈধ ‘ওয়ান টেন’ জুয়া খেলা চলছে। মাঠে গুঞ্জন রয়েছে নেত্রকোণা গোয়েন্দা সংস্থা, পূর্বধলা থানা ও শ্যামগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রকে ম্যানেজ করে এই প্রতি রাতে অবৈধ ‘ওয়ান টেন’ জুয়া আসর চলছে। রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত জুয়ার আসরে বিভিন্ন জেলা থেকে জুয়াড়িরা অংশ নেয়ায় লাখ লাখ টাকা হাতবদল হচ্ছে। এমনকি জুয়া খেলায় অংশ নেওয়ার জন্য ধনাঢ্য জুয়াড়িদের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে ঘোড়ার বাজারে স্থানীয় একটি মসজিদের আশে-পাশে। এই জুয়া খেলায় মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা অংশ নেয়ার ফলে স্থানীয় যুব সমাজ জুয়া ও মাদকের দিকে ধাবিত হওয়ায় জুয়া খেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই সর্বনাশা জুয়ার আসরে অংশ নিয়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে শ্যামগঞ্জ ঘোড়ার বাজার এলাকায় ঘটা করে ওই জুয়া আসর চললেও নেত্রকোণা জেলা গোয়েন্দা সংস্থা, পূর্বধলা থানা ও শ্যামগঞ্জ তদন্ত ফাঁড়ি কোন ব্যবস্থা নেয়নি। মাঠে গুঞ্জন রয়েছে জুয়া বোর্ডের মালিক বাদল মেম্বার নেত্রকোণা জেলা গোয়েন্দা সংস্থা, পূর্বধলা থানা ও শ্যামগঞ্জ তদন্ত ফাঁড়িকে ম্যানেজ করে প্রতি রাতে অবৈধ ‘ওয়ান টেন’ জুয়ার আসর চালায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বধলা থানার শ্যামগঞ্জ এলাকার বাদল মেম্বার আর শহিদুল ‘ওয়ান টেন’ নামের ওই জুয়া খেলার আয়োজন করেছে। পূর্বধলা থানার বিভিন্ন এলাকায় ‘ওয়ান টেন’ জুয়া চালানোর পর বর্তমানে শ্যামগঞ্জ ঘোড়ার বাজার এলাকা থেকে কাঁচা রাস্তায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি ছোট বাজারে বেশ কিছুদিন যাবত এই জুয়া খেলা চলছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আয়োজকরা প্রাইভেট কার, মাইক্রো গাড়ি ও সিএনজি গাড়ি করে এখানে আসছে। আয়োজকরা ঘোড়ার বাজারে স্থানীয় একটি মদজিদের আশে-পাশে জুয়াড়িদের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। জুয়া খেলা শেষ হলে মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী আয়োজকরা জুয়াড়িদের গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিদায় দেয়।
শ্যামগঞ্জ ঘোড়ার বাজার এলাকায় ‘ওয়ান টেন’ জুয়ার আসরের বিষয়ে বেশ কিছুদিন আগে পূর্বধলা ওসি’র সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার থানায় জুয়া চলে না। ২৬ জুলাই বিকালে পূর্বধলা ওসি’র সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান, আমি রাতে গিয়েছিলাম ওইখানে কিছু পাইলাম না, পুরা এলাকা অন্ধকার। তিনি পুরা এলাকা অন্ধকার বললেও কিন্তু গতকালও (২৬ জুলাই দিবাগত রাত) জুয়ার আসর চলেছিল। তাকে প্রশ্ন করা হলো, আপনার শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি (২৫ জুলাই দিবাগত রাত) ছুটিতে ছিলেন এবং দায়িত্বে ছিলেন এসআই শাকিব। শাকিব জানান, তিনি জুয়ার লোকেশন পেয়েছেন এবং জুয়া ভেঙ্গে দিয়েছেন। তাহলে-তো আপনার এলাকায় জুয়া চলছিল। পূর্বধলা ওসি বলেন, আমি শ্যামগঞ্জ ফাঁড়িকে নির্দেশ দিয়েছি জুয়া ভেঙ্গে দিতে, ওদেরকে ধরে মামলা দিতে। এতে সম্পূর্ণ বুঝা গেল শ্যামগঞ্জ ঘোড়ার বাজারে জুয়া আসর চলে।
‘ওয়ান টেন’ জুয়ার আসরের বিষয়ে শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শাকিব প্রতিবেদককে জানান, জুয়া আসরের লোকেশন পেয়েছি, আমি জয়ারিদের ধরতে যাচ্ছি। আধা ঘন্টার পর এসআই শাকিবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, জুয়ার আসর ভেঙ্গে দিয়েছি, জুয়ারিরা আগেই টের পেয়ে চলে গেছে। কিন্তু খবর নিয়ে জানা যায় জুয়া ভাঙ্গা হয়নি জুয়া চলছে। আবারও এসআই শাকিব এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জুয়ারিরা চলে গেছে। দুই মিনিটের মধ্যে আয়োজকদের মধ্যে নিজেকে বাদল মেম্বার দাবি করে প্রতিবেদককে উৎকোচ এর প্রস্তাব দেয়া হয় এবং প্রতিবেদক এর নম্বরে কিছু উৎকোচ পাঠানো হয়।
‘ওয়ান টেন’ জুয়ার আসর বিষয়ে নেত্রকোণা ডিবি ওসি’র সাথে (২৫ জুলাই দিবাগত রাত) প্রতিবেদক এর কথা হলে তিনি জানান, আমি শুনেছি। প্রতিবেদক জুয়া আসর বন্ধ করার কথা বললে ডিবি ওসি জানান, আটপাড়ায় মার্ডার হয়েছে, আমার দুইটা পার্টি আসামী ধরতে কেন্দুয়া চলে গেছে, আজকে পরবো না, কালকে ধরে (জুয়ারী) ফেলবো। এরপরের দিন ডিবি ওসি’র সাথে (২৬ জুলাই দিবাগত রাত) জুয়া আসর বন্ধের বিষয়ে কথা হলে ডিবি ওসি জানান, এসপি স্যার জেলায় নাই, কাল স্যার (এসপি) আইতাছে, স্যার আইলে পরে বলে-কয়ে ব্যবস্থা নিবো।
নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আকবর আলী মুন্সি ছুটিতে থাকায় বর্তমান জেলার দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ ফখরুজ্জামান জুয়েল সাথে (২৬ জুলাই দিবাগত রাত) ‘ওয়ান টেন’ জুয়ার আসরের বিষয়ে প্রতিবেদক এর কথা হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, বিষয়টা দেখতেছি।
সর্বশেষ খবর, পূর্বধলা থানার শ্যামগঞ্জ ঘোড়ার বাজার এলাকায় জুয়ারিরা জুয়া খেলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।


