সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ নগরে নিষিদ্ধপল্লীর দুই প্রবেশদ্ধারে রয়েছে অনেক দালাল। এই দালালরা নিষিদ্ধপল্লীর দুই প্রবেশদ্ধারে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করে। সূত্র জানিয়েছে, দালালদের মধ্যে অনেকেই চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। দালালরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন পন্থায় মেয়ে সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ নগরের এই নিষিদ্ধপল্লীর ভিতরে বিক্রি করে থাকে। এইসব মেয়েদের মধ্যে অনেক নাবালিকা রয়েছে। বিগতদিনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অনেক নাবালিকা মেয়ে উদ্ধার করে অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
খদ্দেরদের প্রবেশের আগেই পরতে হয় দালালদের হাতে। তাদের হাত থেকে ছুটাও খুব কষ্টকর। যৌনকর্মীদের দেহ ভোগে ৫শ টাকা রেট হলেও দালালদের হাতে পরে গুনতে হয় হাজার-হাজার টাকা। কখনো কখনো দালালরা খদ্দেরদের ফাঁদে ফেলে কয়েক হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। ময়মনসিংহ নিষিদ্ধপল্লীর দুই প্রবেশদ্বারের (১ম গেইট ও ২য় গেইট) সামনে অবস্থান নেয় রাজন, মোহন, মানিক, আলতাব, রতন, শিমুল, আলাল, লন্ডি দোকানের বাবু, সেলুনের বাবু, ঝুটন, মানিক (২), সোহাগ, সাইফুল, লেংড়া ইমন, তাহের, লেংড়া শেখর, আলামিন, নাবালক ইব্রাহিম, জামাল, হিরা, শিরিন, রেখা, কালী, লিটুনী, হাসান, লাট মিয়া, কামাল, মোশারফ, তারেক, মোজ্জামেলের মা, আজাহার, নজরুল, রহিমা, মিনা, মুন্না, সাধু আলামিন, আশরাফুল, কাজল, রিপন, মাসুদ, সেলিম, মনির, আঁখি’র দোকানের কুডু, সাইফুল (২), কাজল (২), মাদক খোকন, বাবুল, আলী, স্বপ্না, নেশাখোড় বিপ্লবসহ অনেক দালাল। এদের মধ্যে রাজন, মোহন ও মানিক দালালদের তিন বস।
এইসব দালালরা ইয়াবা ট্যাবলেট ও হেরোইন সহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। দালালরা দুই গেইটে দাঁড়িয়ে এসকল মাদক বিক্রী করে থাকে বলে অনেকেই জানিয়েছে। মাদক বিক্রীর নিরাপদ স্থান হিসেবে সম্প্রতি গেইট দু’টি খ্যাতি অর্জন করেছে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত পুলিশের কাছে এ বিষয়ে বহুবার মৌখিক অভিযোগ করার ফলে গতকাল ২৬ জুলাই ১নং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আনোয়ার হোসেন এর নির্দেশে কনস্টেবল সাইফুল ও কনস্টেবল হিমেল অভিযান চালিয়ে দালালদের এক নম্বর বস মানিককে গ্রেফতার করে নিষিদ্ধপল্লীর ১ম গেইট থেকে। এর আগেও মাদকসহ অনেক দালাল গ্রেফতার হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে পুলিশ।
ময়মনসিংহ ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, পতিতাপল্লীর দুই গেইটে কোন দালাল থাকতে পারবে না। তিনি জানান, সব দালালদের সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এখন সময়ই বলে দিবে ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন কতটুকু ব্যবস্থা নিয়েছেন।


