সুমন ভৌমিকঃ গত ১১ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উক্ত প্রজ্ঞাপনে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদে মোট ৩২ জনকে পদোন্নতি দেয় সরকার।
গত রোববার (২৯ মে) পদোন্নতি প্রাপ্ত ৩২ জন ডিআইজিগণের র্যাংক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠান পুলিশ হেডকোয়ার্টারের হল অব প্রাইডে অনুষ্ঠিত হয়। র্যাংক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠানে ডিআইজিগণদের র্যাংক ব্যাজ পড়ানো হয় এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাদের সহধর্মিণীরা। র্যাংক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠানে ৩২ জন ডিআইজিগণের মধ্যে ছিলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রকৌশলী মোঃ শাহ আবিদ হোসেন (বিপিএম-বার)। ডিআইজি প্রকৌশলী মোঃ শাহ আবিদ হোসেনকে র্যাংক ব্যাজ পড়ানোর সময়েও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী সুরাইয়া সুলতানা। ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ ড.বেনজীর আহমেদ (বিপিএম-বার) এবং পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের নিজ নিজ ইউনিটের অতিরিক্ত আইজিগণ এবং যে সকল ইউনিটে অতিরিক্ত আইজিপি নেই সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত আইজিপি (এঅ্যান্ডআই) ড. মোঃ মইনুর রহমান চৌধুরী পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। উক্ত অনুষ্ঠানে পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্পাউজগণও উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহ রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রকৌশলী মোঃ শাহ আবিদ হোসেন এর আগে ঢাকা ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, পিরোজপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দক্ষতার সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন।
শাহ আবিদ হোসেন গত ১৪ আগষ্ট ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেছিলেন। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার থাকাকালে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে অপরাধ দমনে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ বাহিনীকে জিরো টলারেন্সে রেখেছেন। পুলিশ বাহিনীতে সৎ নিষ্ঠাবান ও চৌকস কর্মকর্তা হিসাবে শাহ আবিদ সততার সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্বশীল কর্মনিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণে বার বার সাফল্যের নজির রেখেছিলেন তিনি। শাহ আবিদ ময়মনসিংহে পুলিশ সুপার থাকাকালে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রেখেছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন এবং অর্জন করেছেন জনগণের ভালবাসা। তিনি সাফল্যের বরপুত্র হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিলেন।
মোঃ শাহ আবিদ হোসেন (৫১) বাগেরহাট জেলার আফরা গ্রামের সভ্রান্ত পরিবারের ১৯৭১ সালে ৩১ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সর্দার শাহাজাহান আলী ও মাতা জাহানারা বেগম। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তাঁর স্ত্রীর নাম সুরাইয়া সুলতানা। দাম্পত্য জীবনে তিনি এক কন্যা (আফসিয়া আবেদ জারা) সন্তানের জনক।
তিনি খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) কৃতিত্বের সহিত উত্তীর্ন হন। ১৯৯৫ সালে খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুয়েটে) প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালে বুয়েটের আইএফসিডিআরে রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ২০০১ সালে ২০তম বিএসএসের মাধ্যমে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা ট্রাফিক ট্রেনিং স্কুল, মিলবারক, সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা উত্তরা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিন এর এএসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৮ সেপ্টেম্বর ২০০৫ হতে ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৬ পর্যন্ত আইভরি কোস্টে জাতিসংঘের অপারেশনস প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শাহ আবিদ হোসেন পুলিশ বিভাগে চৌকস কর্মকর্তা হিসাবে দক্ষতার সাহিত দায়িত্ব পালন করায় একাধিকবার পুরস্কৃত হন। এছাড়া তিনি ২০১৮ জাতীয় পর্যায়ে আইসিটি বিষয়ে সেরা পুলিশ অফিসার হিসেবে পুরস্কার লাভ করেন। এর আগে তিনি ২০০৮ সালে জাতীয় পুলিশ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, একাডেমি হংকং, থাইল্যান্ডে, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কা ও অপরাধ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক কর্মশালা, ২০০৮ মেলবোর্ন ও অস্ট্রেলিয়া যান।
তিনি ২০১২ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ পরিকল্পনা গবেষণা ও মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক কাউন্টার-আইইডি সম্মেলন অস্ট্রেলিয়া ক্যানবেরায় যোগদান করেন। এছাড়া বর্তমানে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ময়মনসিংহ রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রকৌশলী মোঃ শাহ আবিদ হোসেন পুলিশ বিভাগে নম্র,ভদ্র ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসাবে নিজেকে তুলে এনেছেন অনন্য উচ্চতায়। অন্যদিকে শিক্ষা ও সংস্কৃতি নগরী ময়মনসিংহ, সুযোগ্য ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি শাহ আবিদ হোসেন এর সাংস্কৃতিক প্রতিভায় ময়মনসিংহবাসী আজো মুগ্ধ। তিনি সুরেলা কন্ঠের অধিকারী।
শাহ আবিদ হোসেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তিনি রেঞ্জের প্রতিটি থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতিকল্পে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।


