Thursday, July 2, 2026

বিবাহ বার্ষিকীতে সেলুনে মিনি পাঠাগার স্থাপন করলেন কথাসাহিত্যিক আরেফীন

Must read

মাসুদ উল হাসান ॥
বকশীগঞ্জে নিজের প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে এক ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহন করেছেন তরুন কথাসাহিত্যিক সুলতানুল আরেফীন আদিত্য। সেলুনে “প্রাচুর্য” নামে মিনি পাঠাগার স্থাপন করে দিয়েছেন তিনি। রোববার বকশীগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সৌখিন জেন্টস পার্লার এন্ড এসি সেলুনের দেওয়ালে মিনি পাঠাগারটি নির্মান করে দিয়েছেন তিনি। সেলুনের দেওয়ালের সেলফে সাজানো রয়েছে সারি সারি বই।
জানা যায়,১৯৯৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন সুলতানুল আরেফীন আদিত্য। ছোট বেলা থেকেই পড়াশুনার পাশাপাশি লেখালেখির প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিলো তার। ইতোমধ্যে তরুন কথাসাহিত্যিক সুলতানুল আরেফীন আদিত্য’র “সাঁকো এবং একটি নীলপরী” ও “স্যাক্রিফাইস” নামক দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে সাঁকো এবং একটি নীলপরী উপন্যাসটি ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা পায়। প্রথম বিবাহ বার্ষিকীর দিনটাকে স্বরনীয় করে রাখতেই এই পাঠাগার স্থাপন করেন তিনি। আলোর সঙ্গী বই,বইয়ের সঙ্গে রই’এই স্লোগান নিয়ে পাঠাগার স্থাপন করে জ্ঞানচর্চার অনন্য এক নজির স্থাপন করেছেন তিনি। পাঠাগারের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন আরেফীন আদিত্য।
এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও কবি মনিরা মনি বলেন, বই মানুষের জ্ঞান অর্জনের মূল স্তম্ভ। মেধা ও জ্ঞানকে বিকশিত করে বই। আমাদের সব অপেক্ষার কোণগুলো ভরে উঠুক পাঠে-পুস্তকে। কথাসাহিত্যিক সুলতানুল আরেফীনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
সেলুনে চুল কাটাতে আসা আলমাছ আলী বলেন,আমার জীবনে সিনেমাতেও কখনো এমন দৃশ্য দেখিনি। অন্যরকম একটি উদ্যোগ। ধন্যবাদ জানাই কবি সাহিত্যিক আরেফীনকে।
সেলুন মালিক শ্রী নিতাই চন্দ্র দাস ও গৌর চন্দ্র দাস বলেন,আমাদের সেলুনে এখন অন্যনরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আগে সেলুনে আসা লোকজন অলস সময়ে মোবাইলে গান-বাজনা ও লুডু খেলে সময় পার করতো। এখন বইপড়ে সময় পার করছে। এই আনন্দের অনুভুতি ভাষায় প্রকাশ করার মত না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কথাসাহিত্যিক সুলতানুল আরেফীন আদিত্য বলেন,সেলুনে অনেকেই লম্বা সময় বসে অপেক্ষা করেন। তাদের জন্যই এই উদ্যেগ। আমরা চাই সর্বস্তরের সবাইকেই বইমুখী করা। যেহেতু সেলুনেই সবার আসা যাওয়া। আমাদের ইচ্ছে আছে প্রতি বছর বিবাহ বার্ষিকীতে একটি করে ভ্রাম্যমান সেলুন পাঠাগার অথবা রেষ্টুরেন্ট পাঠাগার করে দেওয়ার।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article