Thursday, July 2, 2026

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুমের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

Must read

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রবাসী মোসাদ্দেকুর রহমান মাসুম প্রমানিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়। দৈত্য নাগরিকত্ব,একাধিক বিয়ে কেলেঙ্কারী,চুক্তিভিত্তিক বিয়েসহ নানান অভিযোগের তীর এখন তার দিকে। এলাকাবাসী প্রকাশ্যে কিছু না বললেও আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ব্যলটের মাধ্যমে এর জবাব দিবে বলে জানিয়েছেন প্রবীন ভোটাররা।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান,স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোসাদ্দেকুর রহমান মাসুম প্রমানিক বগারচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার প্রতীক আনারস। এই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি গাজী মো: হোসেন আলীসহ ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। মাসুম প্রমানিক জাতীয় পরিচয় পত্র সূত্রে বগারচর ইউনিয়নের আলীরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হলেও তার দাদা আহম্মদ আলী ১৯৪০ সালের দিকে মুসাফিক হিসেবে বগারচরে আসেন। বিভিন্ন সামগ্রীর ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেন তিনি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকায় সান্দারী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। যে কারনে এলাকায় তিনি আহম্মদ সান্দার হিসেবে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে আহম্মদ সান্দার বিয়ে করে সংসারী হন এবং আলীরপাড়ায় বসতি গড়েন। আহম্মদ সান্দার ৫ ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তার বড় ছেলে মৃত আবদুর জব্বারের ছেলে হলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোসাদ্দেকুর রহমান মাসুম প্রমানিক। আহম্মদ আলীর মৃত্যুর পর তার ব্যবসার হাল ধরেন ছেলে আবদুর জব্বার। গ্রামে গ্রামে ফেরি করে মুদি মালামাল বিক্রি শুরু করেন তিনি। অভাব অনটনের সংসারে ছেলে মেয়েকে নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করেন তিনি। তার বড় ছেলে জয়নাল আহম্মেদ পল্লীবিদ্যুতে চাকুরি সুবাধে ৯০ দশকে আবদুর জব্বার ঢাকায় চলে যান। স্ত্রী সন্তান নিয়ে সাভার এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে গিয়ে আবদুর জব্বার ছোট্ট মুদির দোকান শুরু করেন। চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুমও বাবার ব্যবসায় শরিক হন। গত প্রায় একযুগ ডিভি লটারির মাধ্যমে ভাগ্য খুলে মোসাদ্দেকুর রহমানের মাসুমের। আবাসন কর্মসূচীর আওতায় পাড়ি জমান আমেরিকায়। দীর্ঘদিন আমেরিকা থাকায় সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহন করেন। ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকে মাসুমের। দ্রুত সময়ের মধ্যে শুন্য থেকে কোটিপতি বনে যান। যুক্তরাষ্টের আলবামা শহরে শুরু করেন পেট্রল পাম্পের ব্যবসা। টাকা যত বাড়তে থাকে ভুলতে থাকেন তার অতীত। টাকার গরমে নিজের শেখরকেও ভুলে যান তিনি।
এলাকাবাসী আরো জানান, মাসুম আহমেদ মাঝে মধ্যে বাংলাদেশে আসলেও দ্বৈত নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের সুবাদে এদেশ থেকে চুক্তি ভিত্তিক বিয়ে’এর মাধ্যমে নারীদের আমেরিকায় পৌঁছে দেন। চুক্তিভিত্তিক বিয়েকে তিনি ব্যবসা হিসেবে নেন। বর্তমানে তার স্ত্রী রয়েছে ৫ জন। আমেরিকা,সাভার,মুন্সীগঞ্জে রেখেছেন বউদের। চতুর্থ স্ত্রী তার আপন মামাতো বোন আর পঞ্চম স্ত্রী তার আপন চাচাতো বোন। দুজনকেই সন্তানসহ অন্যের সংসার থেকে ভাগিয়েে এনে বিয়ে করেন মাসুম। আমেরিকাতেও তার বহু বিবাহের ঘটনা রয়েছে। যে কারনে প্রথম দুই স্ত্রী তাকে ফেলে অন্যত্র চলে গেছে। তার এই বিবাহের গুঞ্জন এখন টক অব দ্যা বগারচর। বছরের বেশিরভাগ সময় তিনি বিদেশের মাটিতে থাকলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। ঘোষনা দিয়েছেন যে কোন মুল্যে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করবেন। নৌকা ডুবাতে মরিয়া মাসুম প্রমানিক। জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা তার নির্বাচনী প্রচারনায় ব্যাস্ত। একাধিক মাদক মামলা,জুয়া,ধর্ষন মামলার আসামী এখন তার সঙ্গী। নির্বাচনে টাকার কুমিড় মাসুম কতৃক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর শঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article