মাসুদ উল হাসান ॥
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বকশীগঞ্জে নৌকার মাঝি হতে চান তিন নারী প্রার্থী। নিলাক্ষিয়া,বাট্টাজোড় ও ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান তারা। দলীয় মনোনয়নের আশায় জোড় লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা যায়,তপসিল ঘোষনা না হলেও বকশীগঞ্জে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের দোকান, হাট-বাজারে জমে উঠেছে সাধারণ ভোটারদের চায়ের আড্ডা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা সভা সমাবেশ, উঠান বৈঠক করছেন। নানান আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছুটছেন সাধারণ ভোটারদের কাছে। পিছিয়ে নেই নারী প্রার্থীরাও। বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নে শীলা সারোয়ার,ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে জহুরা বেগম ও নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নে মেহেজাবিন অরিন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী।
বাট্টাজোড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শীলা সারোয়ার উঠান বৈঠক,পথসভা ও আলোচনা সভা করছেন নিয়মিত। তার আগাম নির্বাচনী প্রচারনা চোখে পড়ার মত। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক গোলাম দস্তগীর গাজীর শ্যালকের স্ত্রী শীলা সারোয়ার। দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় সমাজসেবা মুলক কাজ করে যাচ্ছেন। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শীলা সারোয়ার হাসিনা গাজী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বাট্টাজোড় বীরগাওঁ সোনাইতুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সততার সাথে। এলাকায় তিনি বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে পরিচিত। ইউপি নির্বাচনে বাট্টাজোড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান তিনি। শক্ত হাতে নৌকার হাল ধরতে চান। শীলাও আশাবাদি দল তাকে মূল্যায়ন করে নৌকা প্রতীক দিবে। নৌকা পেলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিন। এই ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য জুয়েল তালুকদারও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী। ২০১৬ সালে নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারনে নির্বাচন না হওয়ায় জুয়েল তালুকদার নির্বাচন করতে পারেন নি।
অপরদিকে নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে চান মেহেজাবিন অরিন। অরিন নিলাক্ষিয়া সম্ভ্রান্ত মিঞা বাড়ির সন্তান। তার বাবা এডভোকেট হাসিবুর রহমান নাজার নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহনের জন্য মেয়াদ উত্তীর্ন্ন হওয়ার আগে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় চলে যান। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও অংশ গ্রহন করেছিলেন তিনি। ব্যবসায়ীক কারনে স্থায়ী ভাবেই ঢাকায় বসবাস করেন। তবে এলাকার মানুষের খোঁজ খবর রাখেন নিয়মিত। গত দেড় বছর আগে মেহেজাবিন অরিন চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দেন। এরপর থেকে মাঝে মধ্যে তাকে এলাকায় গণসংযোগ করতে দেখা যায়। জেলা যুব মহিলা লীগের সহ সাধারণ সম্পাদক মেহে জাবিন অরিন নৌকা নিয়ে মাঠে থাকতে চান। সেই লক্ষেই জোড় লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এই ইউনিয়নে দুই বারের সফল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার আবারো আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি। তার বড় ভাই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ দীর্ঘদিন যাবত উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সাত্তার চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট ও সৎ প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। দলীয় নেতাকর্মীরাও তার সাথে রয়েছেন।
ভারতীয় সীমান্তবর্তী ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে নৌকা নিয়ে লড়তে চান উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি জহুরা বেগম। নৌকার আশায় জোড় লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। জহুরা বেগম ধানুয়া কামালপুর ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য ছিলেন। গত উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে পরাজিত হন। এবার তিনি নৌকা নিয়ে কামালপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করতে চান। তবে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক,যুবলীগ নেতা ও সাবেক এক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাদেরকে টেক্কা দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া তার জন্য অনেকটাই কঠিন হবে বলে এলাকাবাসীর ধারনা। এছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের তার সাথে কখনোই মাঠে দেখা যায়না। এই ইউনিয়নে আদিবাসী ভোট একটা বড় ফেক্টর। কিন্তু নানা কারনে আদিবাসীদের সাথে জহুরা বেগমের বৈরি সম্পর্ক। এই এলাকার সাধারণ ভোটাররা বলেন,নারী প্রার্থী নয়,পুরুষ প্রার্থী চাই। এই ইউনিয়নে অনেক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। দল তাদের কাউকে মনোনয়ন দিবে। তবে দল তাকে মুল্যায়ন করে নৌকা প্রতীক দিবে বলে শতভাগ আশাবাদি তিনি।


