13 C
Munich
Tuesday, June 16, 2026

বকশীগঞ্জের সফল আম চাষী আবদুল মালেক

Must read

মাসুদ উল হাসান ॥
ফলজ বাগান করে স্বাবলম্বী হয়েছেন বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের ধারারচর গ্রামের আব্দুল মালেক। বর্তমানে তিনি এলাকায় একজন আদর্শ কৃষক হিসেবে পরিচিত। তার বাগানের বিভিন্ন জাতের সুস্বাধু আম যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। একদিন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি হবে তার আম এমনটাই স্বপ্ন দেখেন আব্দুল মালেক।
জানাযায়, ছোটবেলা থেকেই বৃক্ষ রোপনের প্রতি ব্যাপক দুর্বল ছিলেন আবদুল মালেক। বেকার আবদুল মালেক ১৯৮৫ সালে বিয়ে করে সংসারী হন। সংসারের অভার পুরনের জন্য ১৯৮৯ সালে পেয়ারা বাগান করার উদ্যোগ নেন আব্দুল মালেক। নিজের জমি না থাকায় বাগান করার জন্য এক বিঘা জমি দিয়ে ছিলেন তার বাবা। কিন্তু টাকার অভাবে ফলের চারা রোপন করতে পারছিলেন না। ওই সময় তার স্ত্রীর কাছ থেকে ৬ টি হাসের বাচ্চা নিয়ে ৯০ টাকা বিক্রি করে পেয়ারা বাগান করেন আবদুল মালেক। ৯০ টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু হয় । প্রথম বছরেই ২৭ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করেন। এর পর তিন বিঘা জমি কিনে আপেল কুলের চাষ শুরু করেন। সেখানেও সফলতা লাভ করেন। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে বাগানের পরিধি। এখন তার সাড়ে ১০ বিঘা জমিতে আম বাগান। বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫ শ আমগাছে ঝুলছে পাকা আধাপাকা আম। দেখে মনে হয় আমের রাজ্য। তার বাগানে বর্তমানে ব্যানানা,কটিমন, কিউজাই, পালমার,আমেরিকান ক্যান্ট, বারিফুর,শ্রাবনী, গৌর মতি,সূর্যের ডিম, চিয়ংমাই জাতের আম রয়েছে। এছাড়াও সফেদা,মাল্টা,বল সুন্দরী কুল,লিচু বেদেনা,লিচু চায়না-৩,চায়না ১,আসফল,নটকন,থাই জাম্বুরা,দেশী জাম্বুরা চাষ করছেন আবদুল মালেক। প্রতি কেজি আম ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শুধু তাই না আব্দুল মালেকের আম বাগানে ১০ জন শ্রমিকের কর্ম সংস্থান হয়েছে।
আব্দুল মালেক জানান,তার বাগানে প্রতিদিন নারী পুরুষ ১০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এ বছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। লকডাউনের কারনে সাময়িক সমস্য হচ্ছে। তার পরেও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবেও আমের চাহিদা ব্যাপক। তাছাড়া অনলাইনের মাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আমের অর্ডার আসছে। তিনি আরো বলেন সব খরচ বাদ দিয়ে চলতি মৌসুমে ১০/১২ লাখ টাকা লাভ হবে। সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে আরও ভালো করা সম্ভব বলেও জানান এই সফল চাষী।
টাংগাইলের ভূয়াপুরের আম ব্যবসায়ী মজিবর রহমান বলেন, আমি প্রতিবছরই এই বাগান থেকে পাইকারী দরে আম কিনে নিজ এলাকায় বিক্রি করি। সুসাধু হওয়ায় এই আমের চাহিদা অনেক বেশি। মান এবং স্বাধ ভালো হওয়ায় বিক্রিও অনেক ভালো হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর আজাদ জানান,তার বাগান পরিদর্শনের জন্য মাঝে মধ্যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়। এছাড়াও আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগীতা দেওয়া হবে তাকে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন জাহান লিজা জানান,প্রত্যান্ত অঞ্চলে এত সুন্দর একটি ফল বাগান আছে জানার পরই আমি দেখতে গিয়েছিলাম। সত্যিই মনোমুগ্ধকর একটি ফলজ বাগান করেছেন আদর্শবান কৃষক আবদুল মালেক। তাকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article