মাসুদ উল হাসান ॥
বকশীগঞ্জে এক বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন মুন জাহান লিজা। একই সময়ে বাল্যবিয়ে নিবন্ধনের চেষ্টার অভিযোগে পৌর শহরের কাজী খন্দকার নুরুল ইসলামের সহযোগি হিসেবে খ্যাত ভূয়া কাজী রফিকুল ইসলামকে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান এবং বর ও কণের বাবাকে ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যামান আদালদের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইউএনও মুন মুন জাহান লিজা। রফিকুল ইসলাম মাষ্টারবাড়ি এলাকার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রফিকুলের বসত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বকশীগঞ্জ পৌর শহরের মেষেরচর গ্রামের রাজু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়ার ( ১৯) সাথে নীলাক্ষিয়া ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামের অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ে ঠিক হয়। উভয় পক্ষ গোপনে বর-কনেকে সাথে নিয়ে কাজী রফিকুল ইসলামের বাড়িতে বিয়ে রেজিষ্ট্রি করতে যায়। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বাল্যবিয়েটি নিবন্ধন করার চেষ্টা করেন কাজী খন্দকার নুরুল ইসলামের সহযোগি রফিকুল ইসলাম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ইউএনও মুন মুন জাহান লিজা ও ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাট কাজি রফিকুল ইসলামের বাড়িতে হানা দিয়ে বাল্যবিয়েটি পন্ড করে দেন। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে নিবন্ধনের চেষ্টার অভিযোগে রফিকুল ইসলামকে ৬ মাসের জেল, বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় বর ও কণের বাবাকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও উভয়পক্ষের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)শফিকুল ইসলাম সম্রাট জানান, ভ্রাম্যমান আদালতের দেয়া কারাদন্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলামকে শুক্রবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন মুন জাহান লিজা জানান,যেখানেই বাল্যবিয়ে সেখানেই প্রতিরোধ। তাছাড়া বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। বাল্যবিয়ের সাথে যেই জড়িত থাকুক না কেনো আইনের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এই অভিযান অব্যহত থাকবে।


