সুমন ভৌমিকঃ উচ্চ বেতনের চাকরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফুলপুর ও তারাকান্দা এলাকার ৭ বাংলাদেশীকে স্থানীয় মানবপাচারকারী চক্র সৌদি আরব পাঠায়। সৌদি আরব গিয়ে তারা গত ৮ মাস যাবৎ মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে উচ্চ বেতনের চাকুরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় দালাল চক্র ৩৯ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মোঃ সেলিম মিয়া (৩৩), মোঃ আজহারুল ইসলাম (১৮), সোহেল মিয়া (২৭), মোঃ খোকা মিয়া (২৫), রমজান আলী (৩২), মোখলেছুর রহমান (৩৫), মোঃ তানিম মিয়া (১৮)-কে সৌদি আরব পাঠায়। পাঠানোর পর হতে গত ৮ মাস যাবৎ ভিকটিমগন সৌদি আরবে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
ভিকটিমগন স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে ৩৯ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সৌদি আরবে এসে নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে ও মানবেতর জীবন যাপন করছে মর্মে বাংলাদেশ পুলিশের ফেইসবুক পেইজে একটি পোষ্ট করে। উক্ত পোষ্টটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপারকে তথ্য প্রদান করেন।
হেডকোয়ার্টার্স থেকে মানবেতর কাহিনীর তথ্য পেয়ে ময়মনসিংহের দক্ষ পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (বিপিএম-সেবা) গুরত্বের সাথে মানবিক বিবেচনা করে বিষয়টি প্রাথমিক তদন্ত করে দালাল চক্রকে সনাক্তকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা’র অফিসার ইনচার্জ শাহ মোঃ কামাল আকন্দ (পিপিএম-বার)-কে নির্দেশ প্রদান করেন।
ময়মনসিংহ পুলিশ মোহাঃ আহমার উজ্জামান এর নির্দেশ পেয়ে ডিবি’র অফিসার ইনচার্জ শাহ মোঃ কামাল আকন্দের তত্বাবধানে প্রাথমিক তদন্ত সাপেক্ষ্যে ডিবি’র টিম মাঠে নেমে পরে। প্রাথমিক তদন্তে ১২ জুলাই ভোর রাত্রে ফুলপুর থানার ছোট শুনই এলাকার দালাল চক্রের অন্যতম সদস্য মৃত-নজর মামুদ এর ছেলে মানবপাচারীকারী জামাল উদ্দিন (৪০)-কে নিজ বাড়ি থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জামাল উদ্দিন ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
এই বিষয়ে ১২ জুলাই ভিকটিমের ভাই মোঃ আকরাম (৩৫) ফুলপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করিলে ফুলপুর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৬(২)/৭/৮(২) ধারায় মামলা রুজু হয়। মামলা নং-০৯। গ্রেফতারকৃত আসামীকে রিমান্ড চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


