সুমন ভৌমিকঃ বাংলাদেশের অতিপরিচিত প্রান্তিক যাযাবর সম্প্রদায় বেদেগোষ্ঠী। ভূমিহীন এই মানুষেরা দলবদ্ধভাবে নৌকায় বা খালি জায়গায় ছোট ছোট অস্থায়ী ঝুপড়ি বানিয়ে বাস করে। রুটি রোজগারের সন্ধানে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেরায় ‘দুস্থ-অসহায়-ছিন্নমূল’ বেদে সম্প্রদায়। সাপের খেলা দেখানোর জন্যই এরা বেশ জনপ্রিয়। সরকারের অঘোষিত লকডাউনে এই সম্প্রদায়ের মানুষগুলো রুটি রোজগারের সন্ধানে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। ফলে না খেয়ে দিবা-রাত্রি যাপন করছে প্রান্তিক যাযাবর বেদেগোষ্ঠী।
ময়মনসিংহ শম্ভুগঞ্জ ব্রীজের নিচে ব্রক্ষ্মপুত্র নদের ধারে ৩১ মার্চ মঙ্গলবার বিকাল ৪ টায় ‘দুস্থ-অসহায়-ছিন্নমূল’ বেদে সম্প্রদায়ের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন ময়মনসিংহের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা)।
তিনি জেলার পুলিশ অফিসারদের স্বেচ্ছায় প্রদানকৃত বৈশাখী ভাতার অর্থ দিয়ে ৮০টি বেদে পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় প্রত্যেককে ৫ কেজি চাউল , ২ কেজি আলু , ১ কেজি ডাল , ৫০০ মিঃ লিঃ তৈল ও ৫০০ গ্রাম লবন দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান বলেন, ভাসমান ও অসহায় পরিবার বর্তমানে যাদের কোন উপার্জন নাই তাদেরকে এমন মানবিক সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ। আমরা করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ধাপে প্রায় পৌঁছে গিয়েছি। এখন দরকার বেশি সতর্কতা ও হোম-কোয়ারেন্টাইন। দরকার সামাজিক দূরত্ব শতভাগ নিশ্চিতকরণ। যতটা সম্ভব আমরা ঘরে থাকবো, নিজে সুস্থ থাকবো অন্যকেও সুস্থ রাখবো।
খাদ্য সামগ্রী বিতরণের পর পুলিশ সুপার কোতোয়ালী পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের টিম নিয়ে ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করেন। এসময় পুলিশ ভ্যান থেকে মাইকিং করে করোনা প্রতিরোধে করণীয় ও নিয়ম মেনে চলার জন্য নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
খাদ্য সমগ্রী বিতরণ কালে পুলিশ সুপারের সাথে ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ন কবীর (ডিএসবি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী -বিপিএম (ক্রাইম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন (সদর সার্কেল), কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল ইসলাম (পিপিএম), জেলা গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার ইনচার্জ শাহ মোঃ কামাল আকন্দ (পিপিএম-বার), ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।


