সুমন ভৌমিকঃ করোনা বিস্তার রোধে ২৬ মার্চ হতে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনসচেতনতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র দিকনির্দেশনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে সারাদেশে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবার নির্দেশ দিয়েছেন।
আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী (বিপিএম-বার) করোনা বিস্তার রোধে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশও পিছিয়ে নেই। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সচেতনতা সৃষ্টিতে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা) এর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থেকে কাজ করে যাচ্ছে।
জেলা পুলিশ জেলায় ৮৩৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষগুলোকে তিক্ষ্ণ নজরে রেখেছেন। জেলা-উপজেলার রাস্তাগুলো জনশূন্য রাখতে, মাস্ক না পড়া ও একের অধিক এক সাথে চলা এবং বিনা কারনে রাস্তায় মানুষ বের হলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে।
জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতার জন্য ব্যানার, লিফলেট বিতরণ এবং পাশাপাশি হাত ধোয়ার সাবান ও মাক্স দেওয়া হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে সচেতন হই, আপনার সচেতনতাই করোনা প্রতিরোধ সম্ভব এমন শ্লোগানে মময়মনসিংহবাসীকে সচেতন হওয়ার উদ্বুদ্ধ করেছে জেলা পুলিশ।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে প্রতি থানা এলাকায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমম্বয়, হোম কোয়ারেন্টাইন পর্যবেক্ষণ ও জনগণকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অবহিত করণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আগত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রনে রাখতে ডিবি পুলিশকে বিশেষ কাজে লাগিয়েছেন। ডিবি পুলিশ সদর অঞ্চলের গ্রাম ও হাট-বাজারে এবং নগরীর বিভিন্ন বাজার ও পয়েন্টেগুলোতে সকলকে নিজ নিজ বাড়ী-ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রনে কঠোর পদক্ষেপ ও ঔষুধের দোকানের সন্মুখে সাদা বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করার মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব নির্দিষ্টকরণ নিশ্চিত করেছে। সাধারণ জনগণের মাঝে জনসচেতনতা ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করনীয় এবং মাস্ক বিতরণ করেছে ডিবি পুলিশ।
মানবিক পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান সমাজের নিন্মবিত্ত মানুষের জীবন যাপনের কথা চিন্তা করে ২৭ মার্চ ১শ ২০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেন।
তিনি ময়মনসিংহবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, বিদেশ ফিরত যারা ময়মনসিংহে অবস্থান করছে তাদের সমন্ধে জেলা পুলিশকে অবহিত করতে। জেলার সকল সাধারণ মানুষ সরকারের নির্দেশনা মেনে চলে সেদিকটা উপলব্ধি বাস্তবায়ন করতে তিনি ময়মনসিংহ পুলিশের প্রতিটি ইউনিট, থানা, গোয়েন্দা পুলিশ ও ফাঁড়িকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান ২৯ মার্চ রবিবার সকালে নগরীর সড়কে নেমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করেছেন। তিনি ঢাকা থেকে আগত যাত্রী ও গার্মেন্টসকর্মীদের আহবান জানিয়ে বলেন, কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। “নিজে বাঁচুন, অপরকে বাঁচতে সহায়তা করুন”। অঘোষিত লকডাউনে-সাধারণ জনগণ ঘরে অবস্থান করছে তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অপরদিকে, একইদিনে পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান এর নির্দেশনায় ওসি ডিবি শাহ কামালের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখার টিম হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা বাজার, ফুলপুর উপজেলার আমুয়া বাজার ও তারাকান্দা উপজেলার উত্তর বাজারসহ গ্রাম অঞ্চলের বেশ কয়েকটি বাজারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে করোনা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়েছেন ডিবি পুলিশ এবং অটো চালকদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন ।
পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, সরকারের নির্দেশ অমান্য করে রাস্তায় জনগন বের হলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ব্যবস্থা নিবে। তিনি একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “আমরা সবাই মিলে সচেতন থাকি” করোনা বিস্তার রোধ করা সম্ভব-জনস্বাস্থ্য তথা জনস্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব।
তিনি ময়মনসিংহবাসীকে আহবান জানিয়ে বলেন, করোনা বিস্তার রোধে সরকারের নির্দেশ মেনে আমরা সকলেই ঘরে অবস্থান করি। এতে আপনিও বাঁচবেন এবং সকলকে বাঁচার সুযোগ করে দেই।


