সুমন ভৌমিকঃ ‘তোমরা জনগণের পুলিশ’। স্বাধীনতার পর প্রথমবার পুলিশ সদর দপ্তরে এসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পুলিশের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে একথা বলেন। তাই জনগণের পুলিশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। সে জন্য নয়া প্রতিপাদ্য গ্রহণ করেছে পুলিশ। “মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার-পুলিশ হবে জনতার”।
জনতার পুলিশই হচ্ছে জনবান্ধব পুলিশ। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। জনবান্ধব পুলিশ উপহার দিতে প্রধানমন্ত্রী জনকল্যাণে পুলিশকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
উন্নত পুলিশ এর জন্য মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী (বিপিএম-বার)। ফলে পুলিশ বদলে যাচ্ছে। আইজিপির দৃঢ় প্রত্যয়-মুজিব বর্ষেই পুলিশ হবে জনতার।
‘জনগণের পুলিশ’ শব্দবন্ধটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর। আর জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই পুলিশকে জনকল্যাণমুখী সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। ‘পুলিশ এখন জনবান্ধব পুলিশ’ যার পিছনে জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ যেন পুলিশ বাহিনী থেকে কাঙ্খিত সেবা পায়। আধুনিক পুলিশ যেন হয়ে উঠে মানবিক পুলিশ।
পুলিশ সম্পর্কে জনমনে প্রচলিত ধারনা পাল্টে দিতেই চ্যালেন্জ নিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক। ফলে পুলিশ বাহিনীর অগ্রযাত্রায় যুগান্তর সূচনা হয়েছে।
ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিষ্টার হারুন অর রশিদ (বিপিএম-সেবা) বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পুলিশ এখন আর স্বপ্ন প্রত্যাশা নয়। পুলিশ জনস্বার্থে নিবেদিত। পুলিশকে সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে উদ্যোগসমূহ ফলপ্রসূ হচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশী সেবার ক্ষেত্রে থানাকেই কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে জনবান্ধব হতে হবে। মানবিক পুলিশ বাহিনীর ইমেজ গড়তে যা গুরুত্বপূর্ন। ডিআইজি বলেন- পুলিশ এখন মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক। জনগনের সাথে পুলিশের মধ্যে যেন দুরত্ব না থাকে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা) বলেন, মুজিব বর্ষেই পুলিশ হবে জনতার। পুলিশ সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারনা দূর করা গুরুত্বপুর্ন। এজন্য প্রতিটি থানাকে সেবার রোলমডেল হিসাবে গড়ে তোলা গেলেই সাধারন মানুষ পাবে বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত সেই জনগনের পুলিশ।
ময়মনসিংহের বিভিন্ন থানায় দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্যনীয় হয়ে উঠেছে। পুলিশ আস্থাহীনতার সংস্কৃতিকে বিদায় করে বিবর্তনের মধ্যে যাত্রা শুরু করেছে। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরোটলারেন্স নীতিতে চলার সাফল্য অর্জন করেছে। আইন-শৃংখলা সুরক্ষা, অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা, সামাজিক শান্তি শৃংখলা জোরদারে পুলিশ তৎপর। এক্ষেত্রে মনিটরিং, জবাবদিহিতা জোরদার করা হয়েছে।
জনগন যাতে পুলিশের কাছে সহজে সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে কর্মপরিকল্পনা ও কৌশল নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভালো কাজের মূল্যায়ন ও মন্দকাজের নিয়ন্ত্রনে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে উৎকর্ষতার সুবাদে পুলিশ অপরাধের রহস্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে ক্রমাগত সাফল্য অর্জন করে চলছে। ময়মনসিংহ জেলা ও রেঞ্জে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সাফল্যের নজির রাখছে।


