মতিন রহমান।। “আয় আয় সোনামণি টিকা দিয়ে যা” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী ১৮ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত চলবে,মিজেলস হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন। ওই কর্মসূচিকে ঘীরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
ক্যাম্পেইন সফল করতে গণমাধ্যম, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধিসহ নানান স্থরের মানুষকে নিয়ে অবহিতকরন সভা করেছেন বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রতাপ নন্দী।

সোমবার (১৬ মার্চ ২০২০) স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাঃ প্রতাপ নন্দী। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.স.ম জামশেদ খোন্দকার, বক্তব্য রাখেন বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম সম্রাট, জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ জয়নাল আবেদীন,শিল্প ও বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ আব্দুল হামিদ,মোঃ রমজান আলী, দৈনিক যায়যায় দিন উপজেলা প্রতিনিধি জি এম বাবু, দৈনিক ভোরের দর্পণ উপজেলা প্রতিনিধি মতিন রহমান, দৈনিক জনবাংলা প্রতিনিধি এ.এইচ লালন সহ বকশীগঞ্জ উন্নয়ন সংঘ, ব্রাক, সৌহাদ্য,সুর্যের হাসি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থাপনা করেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাজিম শাহরিয়ার।
এ ব্যাপারে ডাঃ প্রতাপ নন্দী জানান, আগামী ১৮ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত উপজেলার প্রাইমারী স্কুল ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯ মাস থেকে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১৬৮টি টিকাদান কেন্দ্রে ৩০,২৮৫ জন শিশুকে হাম রুবেলা প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হবে। ২৮ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের টিকা দেয়া হবে। ৯ মাস থেকে ১০ বছরের কম বয়সী কোন শিশু টিকাদানের আওতা থেকে কোনভাবেই বাদ দেয়া যাবে না। আপনার এলাকার একটি শিশুও যদি এম আর টিকা থেকে বাদ পড়ে তাহলে তার পাশাপাশি অন্য শিশুরাও হাম-রুবেলার ঝুকিমুক্ত থাকবে না তাই আসুন আমরা সকলে সচেতন হয়ে আমাদের সোনার বাংলা গড়ার কারিগড় ভবিষ্যত প্রজন্মকে হাম রুবেলা টিকা দিয়ে তাদের সুরক্ষা করি।
করোনা ভাইরাস সম্পর্কে তিনি বলেন পরিস্কার পরিচ্ছনতা এবং সচেনতাই আমাদের এ রোগ থেকে রক্ষা করবে। ভয়ের কোন কারন নেই। এর আগেও বাংলাদেশ বিভিন্ন দূর্যোগ মোকাবেলা করে এসেছে। আগামীতে ও যে কোন সমস্যা আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করবো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা যায়, হাম এবং রুবেলা ভাইরাস জনিত দুটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এই দুটি রোগ সাধারণত একজন আক্রান্ত রোগীর হাচি কাশির মাধ্যমে তার সংস্পর্শে আসা অন্যদের মধ্যে অতি দ্রুত ছড়ায়। শিশু ছাড়াও যে কোন বয়সের মানুষের হাম রুবেলা হতে পারে।তবে শিশুদের মধ্যেই হাম রুবেলার প্রকোপ, জটিলতা এবং মৃত্যু বেশী দেখা যায়। হামের জটিলতা গুলোর মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এনকেফালাইটিস, অন্ধত্ব ও বধিরতা অন্যতম।গর্ভবতী মা ১ম ৩ মাসের সময় রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ৯০ পার্সেন্ট ক্ষেত্রে মা থেকে গর্ভের শিশু আক্রান্ত হতে পারে।সেক্ষেত্রে গর্ভপাত এমনকি গর্ভের শিশুর মৃত্যুও হতে পারে অথবা বিভিন্ন জন্মগত জটিলতা নিয়ে জন্মগ্রহন করে; যা কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম নামে পরিচিত।হাম রুবেলা রোগ এবং এদের জটিলতার হাত থেকে বাঁচার সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে সঠিক সময়ে শিশুকে হাম রুবেলা টিকা দিয়ে সুরক্ষিত করা।


