সুমন ভৌমিকঃ একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহ মহানগর শ্রমিক লীগ আয়োজিত শিশুরা মায়ের ভাষায় চিঠি লিখা, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের কৃষ্ণচূড়া চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, বিশেষ বক্তা ছিলেন, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জননেতা মোহিত উর রহমান শান্ত।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক গোলাম ফেরদৌস জিলু, শাহজাহান পারভেজ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সালিমা খাতুন সিদ্দিকা জেসমিন।
অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন আবুল খায়ের চৌধুরী-আহবায়ক ময়মনসিংহ মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগ, সঞ্চালনা করেন গৌতম এষ-সদস্য সচিব ময়মনসিংহ মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, পাকিস্থানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে মর্যাদা দেয়। সেই দিন পূর্ব পাকিস্থানের বাঙ্গালীরা প্রত্যাখ্যান করে এবং বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আন্দোলনে নামে। আমরা সেই থেকে আন্দোলন শুরু করি। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ উন্নতশীল রাষ্ট্রে পরিনত হচ্ছে।
বিশেষ বক্তা ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সংগ্রামী জননেতা মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন, ১৯৪৭ সনে পাকিস্তান জন্মের পর পাকিস্থানের অংশ হিসাবে আমরা পূর্ব পাকিস্থানে তৎকালীন পূর্ব বঙ্গে বসবাস করি। এই পূর্ব বঙ্গের মানুষ বাঙ্গারীরা সরকারী ভাষা উর্দু মেনে নিতে পারেনি। সে সময় পাকিস্থানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মাতৃভাষা ছিল বাংলা। পৃথিবীর ইতিহাসে নজির ঘটিয়ে শুধু মাত্র ভাষার জন্য সংগ্রাম করে। ছালাম-বরকতদের রক্ত ঝড়িয়ে ছাত্র-জনতার কাঙ্খিত স্বপ্ন মাতৃভাষা বাংলা রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে মর্যাদা পায়।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন তিনি ছিলেন ছাত্রনেতা। মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। “বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা” এ ব্যাপারে দল-মত নির্বিশেষে দ্বিমত নেই।
তিনি আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা মাতৃভাষা বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’র দিবস হিসাবে রুপান্তরিত করেছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার একক প্রচেষ্ঠায় একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বের সমগ্র জাতির মাতৃভাষা’র দিবস ও আবেগের দিন। জননেত্রী শেখ হাসিনা মাতৃভাষা বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’র দিবস হিসাবে স্বীকৃতি আদায় করার জন্য ধন্যবাদ জানাই।


