সুমন ভৌমিকঃ পুরস্কার শুধু সাফল্যের স্বীকৃতি নয়। প্রেরণাও। দক্ষতার মূল্যায়ন। আর বারবার সেই পুরস্কার অর্জন অবশ্যই তাৎপর্যবহন করে।
ময়মনসিংহ রেঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ প্রতিমাসে পুরস্কার দিয়ে থাকে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কাজের মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে এই পুরস্কার।
রেঞ্জ ও জেলায় ধারাবাহিকভাবে এই পুরস্কার লাভের কৃতিত্ব রয়েছে শাহ্ মোঃ কামাল আকন্দ (পিপিএম-বার) এর। তিনি ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের দেয়া এ বছর জানুয়ারি মাসের পুরস্কারেও ওসি ডিবি তার সাফল্যধারার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছেন। পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা) তাকে জানুয়ারি/২০২০ মাসে জেলার শ্রেষ্ঠ উদ্ধারকারী ইউনিট প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটনে পুরুস্কার প্রদান করেন।
এটি হলো নবাগত পুলিশ সুপারের হাত থেকে পাওয়া তার দ্বিতীয় পুরস্কার। আহমার উজ্জামান গত ৩০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে এসপি হিসাবে যোগ দেন।
১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার পুলিশ লাইন্স কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জানুয়ারি মাসের সেরা পুলিশদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ডিবি ওসি শাহ্ মোঃ কামাল আকন্দ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের সেরা গোয়েন্দা অফিসার হিসেবে গত ১৫ মাসে ১৫ বার পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও তিনি রেঞ্জে ১৫ মাসে ১৪ বার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।
গত প্রায় দেড় বছরে ময়মনসিংহ রেঞ্জে ও জেলা পর্যায়ের পুলিশী কার্যক্রমে ময়মনসিংহ জেলার গোয়েন্দা পুলিশ সাফল্যধারা বজায় রেখে চলেছে। গোয়েন্দা নজরদারি, ক্লুলেস অপরাধের রহস্যভেদ এবং ঘটনার মূল হোতাকে গ্রেফতার, মাদক দ্রব্য উদ্ধার, মামলার নিষ্পত্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সফল টিমওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ মোঃ কামাল আকন্দ তার পেশাদায়িত্ব, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি স্বরুপ শ্রেষ্ঠ ডিবি ওসি হিসাবে পুরস্কার পাচ্ছেন।
গত জানুয়ারি মাসে যে সব বিষয়ে শাহ কামাল ও তার নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ সাফল্যের নজির রেখেছে, তার মধ্যে রয়েছে গণধর্ষণ, জোড়া খুন, চুরি মামলা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন। ওসি ডিবি শাহ মোঃ কামাল মুক্তাগাছা চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার রহস্যভেদ করে ৪ ধর্ষককে গ্রেফতারে সক্ষম হন। খাগডহর গুন্টিতে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে জোড়া খুন এর আসামীকে দ্রæত গ্রেফতার করেন। ভালুকা উপজেলার সোহাগ আত্মহত্যার মূল রহস্য উদঘাটন এবং ফুলপুর থানার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি গ্রেফতারে সহায়তা, নান্দাইল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা মামলার রহস্য উদঘাটন করে ১ জনকে গ্রেফতার ও কোতোয়ালী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার অন্যতম আসামীকে ধোবাউড়া উপজেলা থেকে গ্রেফতারে সহায়তা প্রদান ছাড়াও কোতোয়ালী থানার পৃথক দুইটি চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন করে মোট ৪ আসামীকে গ্রেফতার করেন।
অন্যদিকে চৌকস এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা গত জানুয়ারি মাসে ক্যালকাটা জুয়েলার্স এর অভিযোগের রহস্য উদঘাটন করেন। এছাড়াও নিবারণমূলক ১১ জনকে গ্রেফতার ও জিডি মূলে ৪ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করেন।
এছাড়াও গত জানুয়ারি মাসে মাদক বিরোধী অব্যাহত অভিযানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। এসময়ে ৪৮৫০ পিস ইয়াবা, ২২৫ গ্রাম হেরোইন, ৭ কেজি ১২৫ গ্রাম গাঁজা, ২৫ বোতল ফেনসিডিল, ৫ বোতল ১০০ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়।
গত এক মাসে ডিবি পুলিশ ৩৫ টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করে, এসময়ে ৫৬ মামলা রুজু, ৪৪ মামলা নিস্পতি, ৮ টি পাবলিক পিটিশন নিস্পতি হয়। সেই সাথে ৮ জন জুয়ারি গ্রেফতার হয়।


