সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ নগরীতে রমেশ সেন রোডে (নিষিদ্ধ পল্লী) একটি আছে লাইসেন্সধারী দেশীয় বাংলা মদের দোকান। সূত্র জানায়, ম্যানেজার সুভাষ নিজে ও তার লোকজন প্রতিদিন প্রায় ৩ শত লিটার দেশীয় বাংলা মদ পতিতা পল্লীর ৪২ জন হকারদের কাছে উচ্চ মূল্যে বিক্রি’র উদ্দ্যেশে পাচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রকাশ, ইতিপূর্বে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের চাপে প্রতিদিন দেশীয় বাংলা মদ অবৈধ ভাবে হকারদের কাছে পাচার বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এখন আবারও সেই পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। থানা পুলিশের তৎপরতা কেন নেই, তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
দেশীয় বাংলা মদের দোকানের ডিলার প্রতিদিন দোকানে না বসায় দোকান কর্মচারিরা পারমিটধারীদের নামে রির্টান খাতায় মদ বিক্রি দেখিয়ে কালো বাজারে হকারদের কাছে অবৈধ ভাবে মদ বিক্রি করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ নগরীতে একমাত্র লাইসেন্সধারী দেশীয় বাংলা মদের দোকান রয়েছে (নিষিদ্ধ পল্লী) রমেশ সেন রোডে। এখানে প্রায় ৫ শত যৌনকর্মী। তাদের আছে ৩টি সংগঠন। অপর দিকে এখানে রয়েছে ৪২ জন অবৈধ ভাবে দেশীয় বাংলা মদ বিক্রী’র হকার। এই দেশীয় বাংলা মদ অবৈধ ভাবে বিক্রি’র হোতা’রা হলেন, মুস্তু, কুদ্দুস, আসলাম, স্বপন, বাবুল, মনু, লাইলী সহ ৪২ জন। এই অবৈধ মদ ব্যবসায়ীরা লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক। তাদের বিরুদ্ধে যদি কোন খবর ছাপা হয় তাহলে তারা স্থানীয় তাদের মদদপুষ্ট সংবাদ মাধ্যমকে ম্যানেজ করে প্রতিবাদ ছাপায় এবং প্রকাশিত সংবাদ এর রিপোর্টারকে চাঁদাবাজ বলে মিথ্যা অভিযোগ করে, এমন নজিরও রয়েছে। ফলে অনেকেই সংবাদ লেখা থেকে বিরত থাকেন।
সূত্র জানায়, অবৈধ মদ ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকেই প্রতিদিন ৬ লিটার বা কেউ কেউ ১২ লিটার দেশীয় বাংলা মদ কাউন্টার থেকে অবৈধ ভাবে সংগ্রহ করে বিক্রি করে। ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ এর অভিযানে অবৈধ ভাবে মদ বিক্রি’র হোতা অনেকেই মদসহ আটক করে মামলা দিয়েছে। র্যাবের অভিযানের ফলে কিছুদিন লাইসেন্সধারী একমাত্র দেশীয় বাংলা মদের দোকান থেকে অবৈধ ভাবে মদ হকারদের দেয়া বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু এখন ডিলার কর্তৃক কালো বাজারে হকারদের কাছে দেশীয় বাংলা মদ বিক্রি ফের চালু হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, নিষিদ্ধ পল্লীর প্রতিজন হকারের কাছ থেকে প্রতিদিন ৩ শত টাকা করে জনৈক ব্যক্তি আদায় করে থাকেন। এতে প্রতি মাসে ৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আদায় হয় বলে জানা গেছে। এ টাকা যায় কোথায়? সূত্র জানায়, মাস শেষে এ টাকা দিয়েই বিভিন্ন অভিযান ম্যানেজ করা হয়!
সম্প্রতি পুলিশের কোন অভিযান পরিলক্ষিত হচ্ছে না। প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেয়ায় সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।


