বদরুল আমীনঃ ময়মনসিংহ বিভাগ হওয়ার পর প্রথম বারের মত অনুষ্ঠিত এস.এস.সি পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ডকে বিতর্কের মুখে ফেলে দিয়েছেন গৌরীপুর এর প্রধান শিক্ষক নরোত্তম চন্দ্র রায়। তার জালিয়াতি, খামখেয়ালীপনা ও মিথ্যাচারে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড এখন সমালোচনার মুখে। অসাবধানতা কিংবা খামখেয়ালীপনা কোনটার দায়ই বোর্ড কর্তৃপক্ষের উপর না বর্তালেও সমালোচনার কমতি নেই, এই নব্য বোর্ডের। শিক্ষক নরোত্তমের কারসাজির দায় যেন, এখন শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের।
সুত্রজানায়, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ এর ২ জন, মনোয়ারা বেগম, রোল : ৪৭১০৯৫, রেজিস্ট্রেশন: ১৬১০৪৭৭৬৭৫, ও হেপী আক্তার, রোল: ৪৭১০১৬, রেজিস্ট্রেশন: ১৭১০২৫৬৫৬২, শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ে বোর্ডের ৩ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে রয়েছেন, প্রফেসর কিরীট কুমার দত্ত, সচিব, মোঃ সামছুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ।
কমিটি পর্যালোচনা নিম্নে রির্পোট প্রদান করেনঃ
গত ২৩-০১-২০২০ খ্রিঃ তারিখে ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয় ( ঊওওঘ- ১১১৬১৭) গৌরীপুর, ময়মনসিংহ এর প্রধান শিক্ষক নরোত্তম চন্দ্র রায়, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর হাতে হাতে ৩৭ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও জিপিএ মান-উন্নয়ন এর ১ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্র না পাওয়া সংক্রান্ত একটি আবেদন করেন (২৩-০১-২০২০ খ্রিঃ তারিখের স্মারক নং ২৩.০১.২০বি)। উক্ত আবেদনে তিনি গত ২১-০১-২০২০ খ্রিঃ তারিখে প্রবেশ পত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে ৩৭ জন কৃতকার্য ও ১ জন মান-উন্নয়ন সহ মোট ৩৮ জন রেজিস্ট্রেশন ধারী পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের পরিবর্ততে যে সকল শিক্ষার্থী নির্বাচনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য অথবা অংশ গ্রহণ করেনি এই ধরনের কিছু শিক্ষার্থীর প্রবেশ পত্র কেন্দ্রে রয়েছে- ( যা প্রধান শিক্ষক কৃর্তক প্রদত্ত তালিকা ও তথ্য অনুযায়ী অনলাইনে কেন্দ্র সচিব বরাবর প্রবেশপত্র প্রেরণ করা হয়) এই মর্মে বর্ণনা প্রদান করেন। এরই ফলশ্রæতিতে তার স্ব-লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী উল্লেখিত ৩৮ জন কৃতকার্য শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র প্রদানের আর্জি পেশ করেন।
তার ২৩-০১-২০২০ খ্রিঃ তারিখের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরীক্ষা শাখা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়ে কম্পিউটার শাখার মাধ্যমে আলোচনা সাপেক্ষে অবহিত হয় যে, প্রতিটি বিদ্যালয়ের ১ টি করে নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড রয়েছে। যা কেবল মাত্র সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক-ই জানেন এবং উক্ত পাসওয়ার্ড এর মাধ্যমে একমাত্র প্রধান শিক্ষক-ই বোর্ডের সার্ভারে প্রবেশ করতে পারেন এবং ফরম পূরণ সোনালী সেবায় ফিস জমাদানের রশিদ ও রেজিস্ট্রেশন সহ সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন। তিনি ছাড়া অন্য কারো পক্ষে এই কার্য সম্পাদন করা সম্ভব নয়। বিষয়টি উপরোল্লিখিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মৌখিক ভাবে অবহতি করা হয় এবং লিখিত ভাবে তার ভুল স্বীকার করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
উক্ত নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গত ২৮-০১-২০২০ খ্রিঃ তারিখে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত ভাবে (প্রধান শিক্ষকের ২৮-০১-২০২০ খ্রিঃ তারিখের পত্র নং- ডি ০৩.০১.২০) তাঁর ভুল স্বীকার করেন এবং ফরম পূরণের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর কৃতকার্য ৩৭ জন পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার আবেদন করেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, নির্বাচনি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে কৃতকার্য ও অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের তালিকা যাচাই বাছাই করে ফরম পূরণের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বের আওতাভূক্ত। বোর্ড শুধু মাত্র সম্মানিত প্রধান শিক্ষকদের অনলাইনে তথ্যের ভিত্তিতে এবং বোর্ডের প্রদত্ত ফিস প্রদান সাপেক্ষে অনলাইনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় যে কেন্দ্রের অন্তর্গত সেই কেন্দ্রে প্রবেশপত্র প্রদান করেন। যেহেতু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাঁর গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ফরম পূরণ সোনালী সেবার ফিস জমাদান ও রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রমটি সম্পন্ন করেন, সেহেতু ভুলবশত সার্ভারে নিবন্ধনকৃত কোন শিক্ষার্থীর নিবন্ধনের দায় বোর্ড কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে না।
সুত্র আরো জানায়, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের নিজস্ব কম্পিউটারের মাধ্যমে ফরম পূরণ সোনালী সেবার ফিস জমাদানের রশিদ গ্রহণ, ফিস জমাদান ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম নিজে সম্পন্ন করেন নি। পার্শ্ববর্তী কম্পিউটারের দোকানের কর্মচারীকে পাসওয়ার্ড প্রদান করে কাজ গুলো সম্পন্ন করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট দোকানের কর্মচারী ও অভিযুক্ত ২ জন শিক্ষার্থীর যোগসাজশে বোর্ডের সার্ভারে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদ্বয়ের ফরম পূরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
জানা যায়, এই দুর্নীতিবাজ চক্রের কারনে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড আজ সমালোচিত হচ্ছে।


