সুমন ভৌমিকঃ ঐতিহাসিক ময়মনসিংহ টাউন হল চত্বরে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা পরিণত হলো বিশাল জনসভায়। সংবর্ধিত নেতা বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক এ. কে. এম আফজালুর রহমান বাবু বললেন-সব ছাপিয়ে আমি ময়মনসিংহের সন্তান। ছাত্রজীবন থেকেই জয় বাংলা শ্লোগান আমাকে শিহরিত করে।
আজন্ম বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসাবে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পরিচয় দিতে চাই। যিনি ৯ বার আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে-হয়েছেন আদর্শের শেষ বাতিঘর। সফল রাষ্ট্র নায়ক। একবিংশের বাংলাদেশে তিনি আরও সাহসী। যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে গেলে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।
ময়মনসিংহের কৃতি সন্তান, আলোক পুরুষ আফজালুর রহমান বাবুকে জননেত্রী শেখ হাসিনা বড় দায়িত্ব দিয়েছেন। নেত্রী তাকে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। ময়মনসিংহ এতে আনন্দে উচ্ছাসিত।
যার মাধ্যমে ময়মনসিংহের রাজনীতির ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় এর সূচনা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এড. জহিরুল হক খোকা সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন ।
বুধবার টাউন হল প্রাঙ্গনে আফজালুর রহমান বাবুকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থকদের উপস্থিতিতে বাবু’র সংবর্ধনা অনুষ্ঠান লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। সার্কিট হাউজের মাঠে এ অনুষ্ঠান হলে ভালো হতো বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। টাউন হল চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থান সংকুলান সংকট দেখা দেয়। একজন এমপি সংবর্ধনাস্থল নিয়ে প্রশ্নও তুলেন। তিনি বলেন-এ সংবর্ধনা সার্কিট হাউজ মাঠে হওয়ার উপযুক্ত।
মূলতঃ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক বাবুর বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি জনসভায় পরিণত হয়। যা আফজালুর রহমান বাবু’র জনপ্রিয়তা ও ময়মনসিংহের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেমন্ড আরেং, মারুফা আক্তার পপি, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ এহতেশামুল আলম, ময়মনসিংহ সিটি করর্পোরেশন মেয়র ইকরামুল হক টিটু।
এছাড়াও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গফরগাঁও এর সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, নান্দাইলের এমপি আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি মনিরা সুলতানা মনি।
জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এড. নুরুজ্জামান খোকন। বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী রকেট, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ আহবায়ক মোফাখখার হোসেন খোকন।
কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর সংবর্ধনা উপলক্ষে জেলা, মহানগর ছাড়াও ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা কর্মীরা ময়মনসিংহকে মিছিলের নগরীতে পরিণত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি বলেন-বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্য বিশেষ অতিথি ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল এমপি জননেতা আফজালুর রহমান বাবু’কে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক করায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেমন্ড আরেং বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন অগ্রাযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সফলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
সংবর্ধনার জবাবে সুবক্তা আফজালুর রহমান বাবু আবেগঘন যে বক্তব্য দেন তা নেতাকর্মী, শ্রোতাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি ময়মনসিংহ অঞ্চলের কালজয়ী, সংগ্রামী, কীর্তিমান ব্যক্তিত্বদের নাম উল্লেখ করে তাদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে ভুলেননি।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমার সৌভাগ্য হয়েছিল শৈশবে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে হাটতে। আমার আজো মনে হয়, এখনো তিনি হাত ধরে আছেন, যেন পথ না হারাই।
আফজালুর রহমান বাবু বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলার আবহমান দাসত্বের শৃঙ্খলের বেড়াজাল ভেঙ্গে জাতির মুক্তিদাতা হয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতার মহান স্থপতি। ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট তাকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে অন্ধকারের অধ্যায় সূচনা করেছিল।
তিনি বলেন, আমাদের ইতিহাস বিজয়ের ইতিহাস। আজো ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তবু জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, থাইল্যান্ডের রেডকার্ড আন্দোলনের মতো এদেশেও আন্দোলন করতে চেয়েছিল কিন্তু সফল হয়নি। আইএস এর উত্থানের আদলে বিএনপি এদেশে অগ্নি, সন্ত্রাস করেছিল, জঙ্গিবাদের উন্মত্ততা ছড়িয়ে ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়ার মতো দেশকে বিপন্ন করার ষড়যন্ত্র ছিল। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা তা হতে দেন নি।তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে দেশ বিপন্ন হয়নি।
ময়মনসিংহ সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত জেলায় উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি ময়মনসিংহের রাজনৈতিক ইতিহাস সংগ্রাম ও কৃতিপুরুষদের নাম উল্লেখ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে বলেন- এই সেই ময়মনসিংহ যার সহজ সরল মানুষগুলোই দেশ জাতির ক্রান্তিকালে সাহসী হয়ে উঠে। অবদান রাখে।


