20.8 C
Munich
Tuesday, June 16, 2026

খোলা আকাশের নিচে শীতে কাঁপছে বস্তিবাসী, ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র পাড়ে বস্তি উচ্ছেদ অভিযান শুরু

Must read

উর্মিবাংলা প্রতিদিন রিপোর্টঃ অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনা অবসান ঘটিয়ে প্রায় পাঁচশত ঘর-বাড়িসহ অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়ায় অসংখ্য ছিন্নমূল বস্তিবাসী পরিবার পথে বসেছে। গত সোমবার ২৩ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদ দখল মুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে মাঠে নামে প্রশাসন।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাশেম ও সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম সাজ্জাদুল হাসান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য অংশ নেন।

প্রথম দিনে ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড় ঘেঁষা কালিবাড়ি গোদারাঘাট এলাকা থেকে থানারঘাট এলাকা পর্যন্ত জায়গা দখল করে গড়ে উঠা প্রায় পাঁচশত পাকা-আধাপাকা ও টিনশেড ঘর এবং দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে বলে প্রশাসন জানায়।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে শিকার ছিন্নমূল মানুষগুলো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছে এবং শীতে কাঁপছে। তাদেরকে আহাজারি করতে দেখা গেছে।

থানারঘাটে ব্রহ্মপুত্র বাস্তুুহারা কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি ও রেলিরমোড় ইসলামবাগ ভূমিহীন সমবায় সমিতির বস্তি ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে শহররক্ষা বাঁধ সংলগ্ন স্থানে গড়ে উঠে। প্রায় ৪০ বছর ধরে গড়ে উঠা বস্তিতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বসতি স্থাপন করে।

জানা যায়, নদীর তীরবর্ত্তী স্থান বেদখল ও অবৈধ স্থাপনা মুক্ত করতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে গতকাল থেকে।

বস্তিবাসীদের দাবি ছিল, তাদের পুর্নবাসন বা আবাসনের ব্যবস্থা করা। এই জন্য তারা সময় চেয়েছিল। গত দু’সপ্তাহ ধরে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানের জন্য মাইকিং করলেও সংশ্লিষ্ঠ এলাকাবাসী প্রত্যাশা করেছিল, তাদের দিকে সরকার সদয় হবে। কিন্তু সোমবার যথারীতি উচ্ছেদের মুখে পড়ে এবং বস্তিবাসীর একাংশ দিশেহারা হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, নদীর দিকের ঘর-বাড়ি উচ্ছেদ হলেও শহর রক্ষা বাঁধের ভিতরে ঘর-বাড়ি স্থাপনায় গতকাল বুলডোজার চালানো হয়নি। তবে প্রশাসন বলেছে, অবৈধ সকল স্থাপনা অপসারণ করা হবে। ফলে বস্তিবাসীরা রয়েছে চরম উৎবেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে।

কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বস্তিবাসী জুলেখা জানান, আমার সব শেষ। মাথা গুজার ঠাঁই নাই। “অহন কই জাইয়াম” কি করবাম। আমরা থাকার আশ্রয় চাই। এরকম অনেকেই বলেছে।

সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম সাজ্জাদুল হাসান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকায় দেশের সকল জলাশয়গুলো অর্থাৎ নদ-নদী উদ্ধারে অভিযান চলছে”।

তিনি আর বলেন, অবৈধ বাসিন্দাদেরকে নোটিশ করার পরেও কেউই জমির মালিকানার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

তিনি জানান, অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করেই শেষ নয়, যাতে পুনরায় দখল করতে না পারে সেই দিকে নজর থাকবে। এছাড়াও সদর উপজেলায় সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের আওতায় আসবে।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article