সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভাসহ ৮টি ইউনিয়নের এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । শিক্ষকরা প্রাইভেটে প্রকাশ্যে জড়িত থাকলেও নিরব রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ওইসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থ্য নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দৃষ্টি আকর্ষন করছেন সচেতন মহল।
সরকারি নীতিমালায় ২০১২ এর ৩ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট উল্লেখ আছে কোন শিক্ষক তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেট অথবা কোচিং চালাতে পারবেনা। প্রাইভেট টিউশনির নানা অপব্যবহার রোধে সরকার ২০১২ সালে কোচিং বাণিজ্য অথবা প্রাইভেট বন্ধের নীতিমালা জারি করার পরে কয়েক মাস বন্ধ থাকলেও বর্তমানে পুরোদমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদে জিম্মি করে প্রাইভেট পড়িয়ে যাচ্ছেন ওইসব শিক্ষকরা। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে দৈনিক বা প্রতিদিন অন্য যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমিত সংখ্যক ১০(দশ) জনের বেশী নয়) শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিত ভাবে ছাত্র-ছাত্রীর তালিকা (রোল, শ্রেণি উল্লেখসহ) জানাতে হবে। অথচ অভিযুক্ত ওইসব শিক্ষকরা সরকারের এই নির্দেশনাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজ বাসভবনে অথবা ভাড়া ভাসায় প্রতিদিন সকালে-বিকালে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯ম ও ১০ম শ্রেণির প্রায় এক ব্যাচে ১৫ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াচ্ছে শুধু তাই নয় তাদের কাছে পড়তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভালো ফলাফল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উদ্বুদ্ধ করছেন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাইভেট টিউশনির মধ্যে ইংরেজী, গণিত সহ বিজ্ঞান বিভাগ ও বাণিজ্য বিভাগের কয়েকটি বিষয়ে শিক্ষকদের ভূমিকা বেশি। সরিষাবাড়ী পৌর এলাকার সরিষাবাড়ী সরকারি পাইলট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, সরিষাবাড়ী আর.ডি.এম মডেল পাইলট হাই স্কুল, সরিষাবাড়ী রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয়, সরিষাবাড়ী সালেমা খাতুন বালিকা বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ, সরিষাবাড়ী অনার্স কলেজ, বাউসী বাঙ্গালী হাই স্কুল এন্ড কলেজ, ভাটারা স্কুল এন্ড কলেজ, বয়ড়া ইসরাইল আহম্মেদ উ”চ বিদ্যালয়, ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার উ”চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ ধরনের প্রাইভেট কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী সরকারি পাইলট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শহীদুর রহমান জানান, সরকারি নীতিমালা ঠিক রাখার লক্ষ্যে প্রত্যেক শিক্ষকদের নিকট থেকে প্রাইভেট না পড়ানোর জন্য আন্ডারটেকেন নিয়েছি। তারপরেও কোন শিক্ষক প্রাইভেট পড়ানোর সাথে সম্পৃক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থ্য নেওয়া হবে।
সরিষাবাড়ী আরডিএম মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থ্য নেওয়া হবে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের প্রাইভেট বা কোচিংয়ে জড়িত থাকা বেআইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থ্য নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ্য নেওয়া হবে।
সংবাদঃ রবিউল ইসলাম


