22.4 C
Munich
Wednesday, June 17, 2026

বালু মহালে রয়েলিটি অফিসে হামলার প্রতিবাদে ইজারাদারের সংবাদ সম্মেলন

Must read

আব্দুর রহমান, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন আকঞ্জি ও তার অনুগত লোকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ব্যবসায়িক কার্যালয়ে হামলা, ভাংচুর, গুলি বর্ষণসহ টাকা পয়সা লুটপাটের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।

দুর্গাপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে গতকাল সোমবার বালু মহালের ইজারাদার অঞ্জন কুমার সরকার লিটন ও আলাল সর্দার এই সংবাদ সম্মেলন করেন। এর তিন দিন আগে গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাদ্দাম হোসেন আকঞ্জি’র মা আনোয়ারা বেগম রীনা আকঞ্জি ছেলেকে নির্দোষ দাবি করে তার পক্ষে জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অঞ্জন কুমার সরকার লিটন ও আলাল সর্দার যৌথ ভাবে লিখিত বক্তব্যে বলেন, তারা উভয়েই সরকারী বিধি মোতাবেক যথাযথ নিয়ম মেনে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পৃথক ভাবে বালু মহাল ইজারা নেন। এর মধ্যে বিজয়পুর থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত এক নম্বর বালু মহাল অঞ্জন কুমার সরকার লিটন ও পৌর শহরের তেরি বাজার থেকে শিবগঞ্জ পর্যন্ত দুই নম্বর বালু মহাল আলাল সর্দার ইজারা নিয়ে বালুর ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু গত ১ জুলাই রাত ১১টার দিকে তেরি বাজার বালু মহালের ১ নম্বর রয়েলিটি অফিসে সাদ্দাম হোসেন আকঞ্জি তার দলবল নিয়ে অস্ত্রেশস্ত্রে¿ সজ্জিত হয়ে প্রবেশ করেন।

এ সময় তিনি ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। ইজারাদার এর প্রতিবাদ করলে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, এখানে বালুর ব্যবসা করতে হলে তাকে ৩ কোটি টাকা দিয়েই ব্যবসা করতে হবে। চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সাদ্দাম হোসেন আকঞ্জি উত্তেজিত হয়ে রিভলবার বের করে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেন।

এ সময় তার অনুগত ক্যাডাররা অফিসের চেয়ার, টেবিল, সিসি ক্যামেরাসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাংচুর করে টেবিলের ড্রয়ারে থাকা নগদ ৩ লাখ ২০ হাজার ৫শত টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অঞ্জন সরকার লিটন অভিযোগ করেন, ইজারা নেওয়ার পর বালু উত্তলনকালে সাদ্দাম হোসেন ও তার ক্যাডার বাহিনী বিভিন্ন সময় অনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে বালু মহাল থেকে জোর পূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছিলেন।

তিনি আরো জানান, গত শুক্রবার জেলা প্রেসক্লাবে সাদ্দাম হোসেনের মা সংবাদ সম্মেলন করে তার ছেলেকে বালু মহালের অংশীদার ও ৩ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪ শত টাকার হিসেবে গড় মিল এবং এ ঘটনায় তার ছেলে নির্দোষ উল্লেখ করেছেন, তা একেবারেই অসত্য ও বানোয়াট। অঞ্জন সরকার সংবাদ সম্মেলনে সাদ্দামের মায়ের অসত্য বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মামলার প্রধান আসামি সাদ্দাম হোসেন আকঞ্জিসহ বাকী আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দূর্গাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাদ্দাম হোসেন ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে গত ১ জুন রাতে পৌর শহরের তেরি বাজারস্থ রয়েলিটি অফিসে চাঁদা দাবী, হামলা, ভাংচুর, গুলি বর্ষণ ও টাকা পয়সা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার দুই দিন পর গত বুধবার অঞ্জন সরকার বাদী হয়ে সাদ্দাম হোসেনকে প্রধান আসামি করে ৩০ জনের নামে দূর্গাপুর থানায় মামলা করেন।

এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মামলা দায়েরের কথা স্বীকার করে বলেন, ওই মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগাপরে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article