মাসুদ রানা ॥
১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান উপলক্ষে এমপি প্রার্থীকে ও দলীয় নেতাকর্মীদের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যেতে বাধাঁ প্রদানের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ। রোববার রাতে জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শিল্পপতি নুর মোহাম্মদকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যেতে নিষেধ করেছেন দেওয়ানগঞ্জের প্রশাসন। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এমন আশংকা দেখিয়ে দেওয়ানগঞ্জে প্রোগ্রাম করতে নিষেধ করা হয়েছে তাকে। এর প্রতিবাদে রাতেই দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ।
বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ কতৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন,হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচী গ্রহন করেছে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ। কর্মসূচীর মধ্যে সকালে পতাকা উত্তোলন,কালোব্যাজ ধারন,বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন,মিলাদ ও দোয়া মাহফিল,দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়ন ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে শোক দিবসের অনুষ্ঠান উপলক্ষে সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু রাতে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র ধর আমাকে ফোন করে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সভাপতি এমপি প্রার্থ ী নুর মোহাম্মদকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যেতে নিষেধ করেন। কি কারনে যাওয়া যাবে না জানতে চাইলে ওসি বলেন উপরের নির্দেশ আছে। এছাড়া দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন্নাহার শেফা,বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন জাহান লিজা,বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলামও বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদকে সাহেবকে ফোন করে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যেতে নিষেধ করেছেন। আমরা যারা আওয়ামীলীগ করি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করি তারা জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্টানে কি কারনে পাশ^বর্তী উপজেলায় যেতে পারবো না সেটা বোধগম্য নয়। তিনি আরো বলেন বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি পদ প্রার্থী। জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচীতে অংশ গ্রহনের সুযোগ রয়েছে তার। জেলা আওয়ামীলীগের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেন জানান সাইফুল ইসলাম বিজয়।
বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শিল্পপতি নুর মোহাম্মদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আগামী সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী আমি। দীর্ঘদিন যাবত বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতার শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান উপলক্ষে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যেতে পারবো না এটা কেমন কথা। দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে বাধাঁ দেওয়া হয়েছে। কি কারনে বাধাঁ নিষেধ তা আমার জানা নেই। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি কারো নাম ধরতে চাইনা তবে আপনারা বুঝে নিবেন। আমার প্রতিপক্ষ আরেকজন এমপি প্রার্থীর নির্দেশে দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জের প্রশাসন বাধাঁ দিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন আমি এমপি প্রার্থী। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচন করব। দল মনোনয়ন না দিলে নির্বাচন করব না। কিন্তু আমাকে বাধাঁ দেওয়া হচ্ছে। আমি আওয়ামী লীগ করি। আওয়ামী লীগের নেতা বা কর্মী হিসেবে আমার প্রাণপ্রিয় নেতার শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পারব না তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। নির্বাচনী মাঠে প্রচার ও গণসংযোগ করার সবার সুযোগ আছে। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় প্রশাসন পক্ষ্যপাতিত্ব করে আমার রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন,সহ-সভাপতি আবু জাফর,সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন বাবুল তালুকদার,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল চন্দ্র ধর জানান, জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্নভাবে পালনের উদ্দেশ্যে ১৫ আগষ্টে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সফর বাতিলের অনুরোধ করেছি। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশংকা রয়েছে মনে করে তাকে এই সফর বাতিল করতে বলা হয়েছে।


