মতিন রহমান।। শেরপুরের শ্রীবরদীতে জামাইয়ের নৃশংস হামলায় স্ত্রী- শাশুড়িসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় ঘাতক জামাই মিন্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের পটল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। রাতভর অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সকালে কাকিলাকুড়া এলাকা থেকে ঘাতক স্বামী মিন্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘাতক মিন্টু গারামারা এলাকার হাইবুদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীবরদী গেরামারা গ্রামের হাইমুদ্দিনের ছেলে পেশায় হাঁস-মুরগী বিক্রেতা মিন্টু মিয়ার (৪০) সঙ্গে প্রায় ১৬ বছর আগে মনিরা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। সাত-আটদিন আগে মনিরার ভাই শাহাদতের বিয়ে হয়। ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে মেয়ের জামাইকে দাওয়াত করেননি মনু মিয়া। এ নিয়ে ভীষণ রেগে যান মিন্টু মিয়া। রাগে-ক্ষোভে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি বোরকা পড়ে ধারাল দা নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে প্রবেশ করেন। বাড়িতে ঢুকেই তিনি শাশুড়িকে কোপাতে থাকেন। তার চিৎকার শুনে মনিরা এগিয়ে এলে তাকেও কোপান মিন্টু। এরপর কায়দায় মনিরার চাচা মাহমুদকেও আক্রমণ করেন তিনি। এমন আকস্মিক ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েন বাড়ির লোকজন। তারা মিন্টুকে বাধা দিতে এলে তাদের উপর হামলা করে পালিয়ে যায় মিন্টু। তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে সবাইকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বাকিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীবরদী থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, বকশীগঞ্জ হাসপাতালে নিহত তিনজনের মরদেহ সুরৎহাল করা হয়েছে। যেহেতু বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের ভর্তি দেখানো হয়েছে, এজন্য শুক্রবার জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘাতক স্বামী মিন্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


