নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
‘শেখের বেটি হাসিনা আমার মা’ আমাকে একটা ঘর দিছে। এখন আমার আর কোন কষ্ট নাই। কারো কথা শুনতে অইবো না। এখন শান্তিতে ঘুমাইতে পারমু। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরের চাবি ও দলিল হাতে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে এসব বলেন ভারতীয় সীমান্তবর্তী লাউচাপড়া গ্রামের ৭৭ বছর বয়সী অন্ধ বিধবা নারী উরমিলা বেগম। দু’হাত তোলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়াও করেন তিনি। মঙ্গলবার ভূমিহীন-গৃহহীন ২০ জনের মাঝে জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তর করে উপজেলা প্রশাসন।
জানা যায়, মাত্র ১২ বছর বয়সে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার লাউচাপড়া গ্রামের উরমিলা বেগমের বিয়ে হয়। জন্ম থেকেই উরমিলার এক চোখ অন্ধ। স্বামী একই এলাকার সামু মিয়া ছিলেন দিনমজুর ও ভূমিহীন। বিয়ের পর থেকেই অন্যের বাড়িতে ঝুপড়ি ঘরে স্বামীর সাথে বসবাস শুরু করেন। দাম্পত্য জীবনে উরমিলা ২ সন্তান জন্ম দেন। কিন্তু জন্মের পরেই দুই সন্তান মারা যায়। ১৯৭৪ সালে উরমিলার স্বামী সামু মিয়াও মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর একদম একা হয়ে পড়েন উরমিলা। তার আপন বলতে পৃথিবীতে আর কেউ নেই। এরপর অন্যের বসত বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। কখনো সুখের দেখা মিলেনি। জীবনের ৬৫ টি বছর অন্যের বাড়ীর ঝুপড়ি ঘরে রাত কাটিয়েছেন। অবশেষে ২৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রয়ন প্রকল্প পাকা ঘরের মালিক হয়েছেন সহায় সম্বলহীন উরমিলা বেগম। গৃহহীন উরমিলা বেগম এখন পাকা ঘরের মালিক। বুঝে পেয়েছেন ঘর ও জমির মালিকানা কাগজ। তাই আনন্দে চোখের জল আটকাতে পারেননি অসহায় উরমিলা। সবার সামনে অঝোড়ে কেঁদেছেন ও দুহাত তুলে দোয়াও করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জন্য।
জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তর কালে অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রউফ তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন জাহান লিজা,পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়,সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন,বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন খান,ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার,মাহমুদুল আলম বাবু,মশিউর রহমান লাকপতি, সিদ্দিকুর রহমান,মোসাদ্দেকুর রহমান প্রমাণিক মাসুম,আলমগীর কবির আলমাছ,মোখলেছুর রহমান জুয়েল তালুকদার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
উরমিলা বেগম বলেন,স্বপনেও ভাবিনাই পাকা ঘরে ঘুমামু। শেষ বয়সে শেখের বেটি আমাক পাকা ঘর দিছে। যতদিন বাচমু শেখ হাসিনাক দোয়া করমু। আল্লাহ যেনো তারে আরো ভালো করে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মজনুর রহমান বলেন, আমরা স্থানীয় সাংসদ ও জনপ্রতিনিধিদের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে সাধ্যের মধ্যে গৃহহীন মানুষের এই ঘরগুলো মানসম্মত ভাবে নির্মাণ করেছি। ঘরগুলো বিশেষ নজরদারীর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। এছাড়াও আশ্রয়ন প্রকল্পের সবগুলোতে আমরা সকল প্রকারের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছি।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনমুন জাহান লিজা বলেন, শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখে সুবিধাভোগি বাছাই করা হয়েছে বলেই অসহায় উরমিলা পাকা ঘরের মালিক হয়েছেন। ৬৫ বছর পর মাথা গুজার ঠাইঁ পেয়েছে অসহায় উরমিলা। আসলে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প সারা বিশ্বের মধ্যে একটি মডেল। লাখ লাখ গৃহহীন মানুষের জন্য বাসস্থান তৈরি করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা দিন-রাত কষ্ট করে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো মানসম্মত ভাবে নির্মাণ করার চেষ্টা করেছি। এছাড়া আমি প্রতিনিয়তই আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর রাখার চেষ্টা করি।
শেখ হাসিনা মা আমায় ঘর দিছে,এখন শান্তিতে ঘুমাইতে পারমু


