মাসুদ উল হাসান ॥
জামালপুরের বকশীগঞ্জে ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার পর গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া নিরপরাধ মানুষকে ঘরে ফেরাতে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন,নির্বাচন এলে আপনারা কেনো জানি পুলিশকে ভিনগ্রহের মানুষ মনে করেন। আসলে কি পুলিশ ভিন গ্রহের মানুষ। আমরাও আপনাদের মত রক্তে মাংসে গড়া মানুষ। বিপদে আপদে পুলিশই আপনাদের পাশে দাঁড়ায়। নির্বাচনে যেই জয়ী হোক আমাদের কিছুই আসে যায়না। কারন আপনারা পছন্দ করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। পুলিশ জনগনের বন্ধু। কিন্তু গত ৫ তারিখ ইউপি নির্বাচনে এই ভোট কেন্দ্রে কোন কারন ছাড়াই আপনারা পুলিশের উপর হামলা করেছেন। গাড়ি পুড়িয়েছেন। যে গাড়ি আপনারা পুড়িয়েছেন সেটা রাষ্টের সম্পদ,যা (জনগনের) আপনাদের টাকায় কেনা। এতে আপনাদের কোন লাভ হয়েছে কি।
আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি কোন নিরপরাধ মানুষকে পুলিশ হয়রানি করবে না। সহিংসতায় জড়িত নয় এমন কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করবে না। আপনারা ঘরে ফিরে আসুন। সেদিনের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে আমরা অপরাধী সনাক্ত করবো। প্রকৃত অপরাধী যারা তারা ছাড়া কোন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হবেন না। কোন নিরপরাধ মানুষকে যদি অন্যায়ভাবে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আমাকে জানাবেন আমি ব্যবস্থা নিব। আপনারা সবাই নিজ বাড়িতে ফিরে আসুন। সংসারের কাজে মনোযোগী হোন। মাঠের ফসল ঘরে তুলুন। পুলিশ দেখলেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রকৃত অপরাধী কাউকে পুলিশ যদি গ্রেপ্তার করতে আসে তাহলে পুলিশকে সহযোগীতা করবেন। অপরাধী নয় এমন কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে আমাকে জানাবেন।
তিনি আরো বলেন,এর আগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল ও বকশীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাটকে আপনাদের কাছে পাঠিয়েছি। তারা এসে নিরপরাধ সবাইকে ঘরে ফেরার আহবান জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরাও এসেছেন। আজ আমি এসে আপনাদের ঘরে ফেরার কথা বলে যাচ্ছি। এরপর হয়তো আর কেউ আসবে না। তাই আপনারা যারা সহিংসতায় জড়িত নয় সবাই ঘরে ফিরে আসুন। অপরাধী যারা তাদের ঘরে ফেরার দরকার নেই। আমরাই তাদের খোঁজে বের করবো। এছাড়া মামলায় যদি কোন নির্দোষ মানুষ আসামী হয়ে থাকে তাকেও অব্যহতি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) রাকিবুল হাসান রাসেলের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর, ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাট,বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম শাহীন আল আমীন,মেরুরচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ আলী,বাগাডুবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিউল হাসান আকন্দ লাভলু ও মজনু মিয়া প্রমূখ।
জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি মেরুরচর ইউনিয়নের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহনের দিন মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যাপক সহিংসতা চালায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ার হোসেন হকের সমর্থকরা। তারা পুুলিশের উপর হামলা,পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ও তিনটি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয় । এ সময় আরো বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। কেন্দ্র দখল করে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টাও চালায় তারা। হামলায় ১১ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়। মুহুর্তেই রনক্ষেত্রে পরিনত হয় মেরুরচর হাইস্কুল মাঠ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে শর্টগানের ১৬০ টি বুলেট ও ৩২ টি টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পুুলিশ। এই ঘটনায় মনোয়ার হোসেন হককে প্রধান আসামী করে নামীয় ৯২ জন ও অজ্ঞাতনামা আরো ১৬০০ জনের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করে পুলিশ।


