মতিন রহমান।। জামালপুরের বকশীগঞ্জ গারো পাহাড়ের লাউচাপড়া পর্যটন বিনোদন কেন্দ্রে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত দর্শনার্থীরা।
জানা যায়, জামালপুর জেলা পরিষদ পরিচালিত লাউচাপড়া অবসর বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রে পার্কিং টোল আদায়ে প্রতিবছর দরপত্র আহ্বান করা হয়। চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পার্কিং ইজারা পেয়েছে সামিউল হক। এরপর থেকেই জেলা পরিষদ নির্ধারিত টোল ফি বাদ দিয়ে ইজারাদার সামিউল হক মনগড়াভাবে বিভিন্ন যানবাহনসহ দর্শনার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টোল আদায় করে আসছেন। ফলে অতিরিক্ত টোল আদায়কে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিদিনই ইজারাদারের লোকজন ও দর্শনার্থীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এনিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এরপরও রহস্যজনক কারনে বন্ধ হয়নি অতিরিক্ত টোল আদায়।
১২ জানুয়ারি সরেজমিন দেখা গেছে, বিনোদন কেন্দ্রে মাইক্রোবাস,পিকআপ প্রবেশের ক্ষেত্রে ১৫০ টাকা টোল নির্ধারণ থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ৩/৪শত টাকা,প্রাইভেট কার ২৫ টাকা থেকে ২০০ টাকা, মোটর সাইকেল প্রবেশের ক্ষেত্রে ২০ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা, বাই সাইকেল ৫ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। তেমনিভাবে দর্শনার্থী প্রবেশে ফি আদায়ের নিয়ম না থাকলেও ইজারাদার প্রতিজন দর্শনার্থীর কাছ থেকে আদায় করছেন ১০/২০ টাকা। সেই সাথে ২য় গেটেও দিতে হয় টাকা। এতে করে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে ইজারাদার।
এই নিয়ে রাজিবপুর থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী করিম মিয়া,আবুল হোসেন,মর্জিনা বেগম ও সাথী আক্তার সাথে কথা হলে তারা জানান,এখানকার পরিবেশ অনেক সুন্দর কিন্তু ভিতরে ঢুকতেই তিন জায়গায় চাঁদা দিতে হয়েছে।এটা ঘুরতে আসা দর্শনাথীদের নিরুৎসায়িত করবে।বিনোদন কেন্দ্রে আসা একাধিক দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন কোন মনিটরিং না থাকায় ইজারাদাররা ইচ্ছা মাফিক টোল আদায় করছেন। অতিরিক্ত টোল আদায়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।
এবিষয়ে লাউচাপড়া বিনোদন কেন্দ্রের ইজারাদার সামিউল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুনমুন জাহান লিজা বলেন, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, পরিষদ নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি টাকা নেয়া হলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


