মাসুদ উল হাসান ॥
বকশীগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের প্রত্যান্ত পাহাড়ী এলাকা সোমনাথপাড়ায় সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন আদিবাসীরা। পাম্প স্থাপনের দাবিতে সোমবার দুপুরে উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী হারুনুর রশিদের সাথে মতবিনিময় করেন আদিবাসী নেতারা। পরে কারিতাস বকশীগঞ্জ উপজেলার সমাজ পরিচালিত স্থায়ীত্বশীল জীবিকায়ন ও সহশীলতা কর্মসূচীর সহায়তায় স্মারকলিপি পেশ করেন তারা।
জানাযায়,বকশীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের সোমনাথপাড়া গ্রাম। ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা এই গ্রামটিতে প্রায় অর্ধশতাধিক আদিবাসী পরিবারের বসবাস। পানির চাহিদা মেটাতে পাহাড়ী ঝিড়ি ও ঝর্নার উপর নির্ভরশীল তারা। বিশুদ্ধ পানি তাদের কাছে স্বপ্নের মত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে শুস্ক মৌসুমে পাহাড়ী আদিবাসীদের পানির উৎস ঝিড়ি ও ঝর্না শুকিয়ে যায়। সে সময় বাধ্য হয়ে পুকুরের পানি ব্যবহার করেন তারা। খাবার অনুপযোগী পানি পান করে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হন সেখানকার মানুষ। বিশেষ করে শিশু,নারী ও গর্ভবতী মায়েরা বেশি সমস্যার সম্মুখীন হন। ফলে বিশুদ্ধ পানির কারনে প্রতিদিন লোকজনকে দূর-দূরান্তে ছোটাছুটি করতে হয়। পানির সঙ্কট সমাধানের জন্য দীর্ঘদিন যাবত সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে আদিবাসীরা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন বহুবার। কিন্ত পানির সমস্যা সমাধান হয়নি,মিলেনি সাবমারসিবল পাম্প। সোমবার স্মারকলিপি দেন তারা। স্মারকলিপি প্রদান কালে অন্যান্যের মধ্যে সমাজ পরিচালিত স্থায়ীত্বশীল জীবিকায়ন ও সহশীলতা কর্মসূচীর জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সুরঞ্জন রাকসাম,ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অনন্ত ম্রং,সোমনাথ পাড়া গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাধানাথ মারাক,বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি রাহুল রাকসাম, শিক্ষার্থী মি.শংকর মানখিন ও বিরতি খকসী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ বলেন,বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কতৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


