নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
বকশীগঞ্জে শতবর্ষী বৃদ্ধা হাজেরা বেগমের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সম্রাট। নিজের বেতনের টাকায় দীর্ঘ ১৮ মাস যাবত ভরন পোষন,চিকিৎসাসহ সকল দায়িত্ব স্বাচ্ছন্দে পালন করে আসছেন তিনি। থাকার জন্য ঘরও নির্মান করে দিয়েছেন ওসি। তার এমন মানবিক কাজ সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
জানা যায়,হাজেরা বেগমের বয়স ১০০ ছুইছুই। বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় মধ্য পলাশতলা সকাল বাজারের পাশে হাজেরা বেগম তার বোনের জরাজীর্ন রান্নাঘরে রাত কাটাতেন। ছেলে মেয়ে, স্বামী বা আপন বলতে কেউ নেই। প্রায় ৪০ বছর আগে তার স্বামী মারা যায়। এর পর থেকেই ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। করোনা পরিস্থিতিতে শারিরীক ভাবে অসুস্থ্য অসহায় হাজেরা বেগম দারুন সমস্যায় পড়ে যান। ওই সময় অসহায় হাজেরা বেগমকে নিয়ে একটি সংবাদ লিখেন বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাহীন আল আমীন। স্থানীয় একটি পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পরেই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নজরে আসে। তাৎক্ষনিক সহযোগীতার হাত বাড়ান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে অসহায় বৃদ্ধা হাজেরা বেগমের দায়িত্ব নেন তিনি। ঘোষনা দেন যতদিন বকশীগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকবেন ততদিন বৃদ্ধার দায়িত্বভার বহন করবেন। সেই সাথে তাকে একটি ঘর নির্মান করে দিবেন তিনি। যেই কথা সেই কাজ। ইতোমধ্যে হাজেরা বেগমের জন্য ঘর নির্মান করে দিয়েছেন। শত ব্যাস্ততার মাঝেও মাসের প্রথম সপ্তাহেই পুরো মাসের বাজার চাল-ডাল-আলু-তেল-চিনি-সাবান-ডিটারজেন্ট পাউডার-মুরগী,আপেল-কমলা-বিস্কুট-কলা-শুকনো খাবার, মিষ্টিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী হাজেরা বেগমের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসেন তিনি। প্রতি মুহুর্তেই মোবাইল ফোনে হাজেরা বেগমের খোঁজ খবর নেন। এ যেনো মায়ের প্রতি এক দায়িত্ববান সু-সন্তানের কর্তব্য পালন। এতে করে শতবর্ষী হাজেরা বেগম আর ভিক্ষাবৃত্তি করেন না। কথায় আছে যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছেন। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মানুষ মানুষের জন্য যে এতকিছু করে বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম সম্রাট তার দৃষ্টান্ত উদাহরন।
বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি ইত্তেফাক সাংবাদিক এম শাহীন আল আমীন বলেন,সীমাহীন কষ্টে দিনাতিপাত করছিলেন শতবর্ষী হাজেরা বেগম। বিষয়টি নজরে আসার পরই তার দায়িত্ব নেন ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাট। দেড় বছর যাবত হাজেরা বেগমের দেখভাল করছেন তিনি। ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে হাজেরা বেগম অনেক ভালো আছেন। ওসির এমন মহতি কাজে খুশি স্থানীয়রাও।
বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট বলেন,মানবিক কারনেই আমি অসহায় বৃদ্ধা মায়ের দায়িত্ব নিয়েছি। মানুষ মানুষের জন্য তাই এটা একজন মানুষ হিসেবে আমার দায়িত্ব বলে মনে করি। যতদিন বাচঁবো জনকল্যানে কাজ করে যাবো।


