নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
জামালপুরের বকশীগঞ্জে করোনা সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুই দিনে ৮১ টি নমুনা পরীক্ষায় ২৯ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। করোনায় হাবিবা বেগম নামে অবসর প্রাপ্ত এক স্বাস্থ্য সহকারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে নিজ বাড়ি ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের খামার গেদরা গ্রামে তিনি মারা যান।
উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে, গত দুইদিনে ৮১ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রতাপ নন্দী,তার স্ত্রী,একজন মেডিকেল অফিসার ও বকশীগঞ্জ পল্লীবিদ্যু জোনাল অফিসের ১৬ জন সদস্যসহ ২৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। তারা সকলে হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া প্রতিটি গ্রামে জ্বর ও ঠান্ডা রোগের প্রকপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। জ্বর,ঠান্ডা ও গলাব্যথাসহ করোনার উপর্স্গ থাকলেও অনেকে ভয়ে হাসপাতালে এসে করোনার পরীক্ষা করছেন না। তারা বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এটাও উদ্বেগের কারন হয়ে দাড়িয়েছে।
অপরদিকে সরকার ঘোষিত শতভাগ লকডাউন বকশীগঞ্জে কার্যকর করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন জাহান লিজা,সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্নিগ্ধা দাস ও বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত উপজেলা সদরসহ প্রতিটি হাটবাজারে নিয়মিত টহল দিচ্ছে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা। স্বাস্থ্যবিধি মানতে ব্যাপক প্রচারনা চালচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। নির্দেশনা না মানায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হচ্ছে। রোববার সর্বাত্বক লকডাউন পালিত হয়েছে বকশীগঞ্জে।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট বলেন,লকডাউন কার্যকর করতে সার্বক্ষনিক পুলিশের টহল টিম মাঠে রয়েছে। মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোষ্ট। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হলেই নেয়া হবে ব্যবস্থা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন জাহান লিজা বলেন,আমরা বাইরে আছি আপনারা ঘরে থাকুন। আপনাদের সুরক্ষার জন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হবেন না। খাদ্য সংকট হলে উপজেলা প্রশাসনের দেয়া নাম্বার অথবা ৩৩৩ নম্বরে যোগাযোগ করবেন। খাদ্য সামগ্রী পৌছেঁ যাবে। তবুও দয়াকরে কেউ বাইরে বের হবেন না। আর যদি নির্দেশনা কেউ না মানে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


