মতিন রহমান।। জামালপুর বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মনিকা পারভীনের বিরুদ্ধে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন প্রদানের মাধ্যেমে প্রতারণার ঘটনায় শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়াও আরও অসংখ্য ভুয়া নিবন্ধন সনদের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি)দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার মোঃ আব্দুর রহমানের কার্যালয়ে এই দুই পক্ষের শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জন্ম নিবন্ধন প্রতারণার স্বীকার ১০ জন ছাত্রীর অভিভাবক তাদের দুঃখ ও হয়রানীকারী মনিকা পারভীনের কর্মকান্ড তুলে ধরেন। উক্ত সময় অভিযুক্ত মনিকা পারভীনও তার বক্তব্য প্রদান করেন।
জানা যায়, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে বকশীগঞ্জ উপজেলার উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। আবেদনের পর লটারিতে বিজয়ী হয় ৬০ জন শিক্ষার্থী। এর পর তারা সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে বকশীগঞ্জ উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ভর্তির পর জন্ম নিবন্ধন সনদে নানা ত্রুটি থাকার কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ ১১ জন ছাত্রীর ভর্তি বাতিল করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ অপেক্ষামান তালিকা থেকে অন্য ১১ জন ছাত্রীকে আবারও ভর্তি করে নেন।এই ঘটনা গণমাধ্যেমে প্রচার হলে এলাকাবাসী মনিকা পারভিনের কাছে নেওয়া জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে যাচাই করলে অসংখ্য ভুয়া জন্ম নিবন্ধন ধরা পড়ে।
এই ঘটনায় জন্মনিবন্ধন প্রদানকারী বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মনিকা পারভীনসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ২৮ জানয়ারি বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেন। তারই প্রেক্ষিতে উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর সহকারী প্রোগ্রামারের কার্যালয়ে গণশুনানী হয়। বকশিগঞ্জ উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি বঞ্চিত ১১ শিক্ষার্থী ছাড়াও অসংখ্য অনিয়মের অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে জমা হতে চলেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অনেক সন্তান মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ হয়ে পরেছে।
বকশীগঞ্জ সচেতন মহলের দাবী অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর একটি প্রতিকার দরকার। ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদের সাথে জড়িতদের শাস্তির ব্যাবস্থা করতে হবে এবং জন্মনিবন্ধন সনদে নানা ত্রুটি বিনা খরচে সংশোধনের ব্যাবস্থা করতে হবে।


