স্টাফ রিপোর্টারঃ গত ১৭ জুন আনুমানিক সকাল ১০.৩০ টায় ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ভবানীপুর গ্রামের মো: তাজ উদ্দিন এর কন্যা মোছা: বিপাশা আক্তার (১৭) এসএসসি’র প্রশংসাপত্র উত্তোলনের জন্য চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য বাড়ী থেকে বের হয়।
পথে ওৎ-পেতে থাকা অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা একই এলাকার জাকারিয়া (৩০) গং পেছন দিক থেকে সিএনজি নিয়ে এসে অতর্কিতে পথ রোধ করে। প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে জোর করে চোখ-মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে তুলে নিয়ে যায়।
ঘটনার ২ দিন পর ১৯ জুন ময়মনসিংহ কোতুয়ালী মডেল থানায় ভিকটিমের ভাই মো: আজিজুল হাকিম একটি সাধারণ ডায়রী দায়ের করেন। এমতাবস্থায় কোন কুল-কিনারা না পেয়ে অবশেষে ২৩ জুন অপহরণ মামলা দায়ের করে বাদী আজিজুল হাকিম। মামলা নং- ৮৩। ময়মনসিংহ কোতুয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম তার পুলিশ টিমকে তৎপর করেন। এই মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই মো: আজাহারুল ইসলাম এর নেতৃত্বে গত ২৮ জুন রাত আনুমনিক ১০ টায় অপরহলণকারীকে উদ্ধার করা হয়। জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বাউসী থেকে অপহরণকারীর আত্মীয়ের বাড়ী থেকে অপহৃত বিপাশা আক্তার’কে উদ্ধার করে পুলিশ ।
ময়মনসিংহ কোতুয়ালী মডেল থানার এসআই আজহারুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন ধরেই আমরা গোয়েন্দা বিভাগের সহযোগিতায় অপহরণকারী চক্রকে ধরার চেষ্টায় তৎপর হয়ে উঠি। বিশেষ মাধ্যমে ফোন ট্রেক করে আসামী’র অবস্থান সম্পর্কে অবহিত হই। সর্বশেষ গতকাল ২৮ জুন জামালপুর পুলিশের সহযোগিতায় ভিকটিম বিপাশা আক্তারকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত জাকারিয়া’কে গ্রেফতার করা হয়। ভিকটিম নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।
তিনি আরো জানান, জাকারিয়ার কাছে গতকাল ২৯.০৬.১৯ তারিখের সরিষাবাড়ী টু ঢাকা বাসের টিকিট পাওয়া যায়। ভিকটিম বিপাশা কে নিয়ে ঢাকার উদ্ধেশ্যে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা ছিলো।
সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামী জাকারিয়ার নামে এর আগেও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে আসামী জাকারিয়া ২ টি বিয়ে করেছে বলে জানা গেছে। ১ম স্ত্রীর সাথে ডিভোর্স হয়েছে এবং ২য় স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রয়েছে জানা যায়। এলাকায় সংগঠিত হওয়া চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই এর সাথে সে ও তার চক্র জড়িত বলে জানা যায়।
গতকাল ২৯ জুন ভিকটিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বিভাগের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে আদালতের মাধ্যমে তার পিতা মো: তাজ উদ্দিন এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপহরণকারী জাকারিয়াকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছেন। রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত বিজ্ঞ আদালতে বিচারিক কাজ বিদ্যমান ছিলো।


