নিজস্ব প্রতিনিধি :
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বাচাঁন, আমি নির্দোষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি আপনার সু-দৃষ্টি কামনা করছি। আপনি আমাকে বাচাঁন, আমার অসহায় পরিবারকে বাঁচান। আমি এবং আমার পরিবারের কেউ অপরাধী নই। আমরা নির্দোষ। এমন আহাজারী বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামের আঃ রশিদের ছেলে তরুণ কবি ও গীতিকার মোঃ সাদিকুল ইসলামের। সংবাদ সম্মলেনে লিখিত বক্তব্যে সাদিকুল ইসলাম বলেন, বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চা মিয়ার পালিত ছেলে আবু রায়হান (১৪) বিগত ২০১৬ সালে ২০ অক্টোবর রাতে খুন হয়। যার প্রকাশ্য কোন সাক্ষী ছিল না। কিন্তু বাচ্চা মিয়া বাদী হয়ে আমার বাবা আঃ রশিদ, আমার সৎ মা নাহিদা বেগম এবং আমিসহ ৮ জনকে আসামী করে ২২ অক্টোবর বকশীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। অতঃপর আমার সহজ সরল বাবা ও সৎ মা পুলিশের ভয়ে বাড়ি ত্যাগ করলে বাদী তার আত্মীয় স্বজন নিয়ে বাড়ি দখল করে এবং ১ নভেম্বর বাড়ি ঘর লুটতরাজ করে নিয়ে যায়। এ সময় তারা ওয়ার ড্রপের ড্রয়ারে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা, ২টি স্বর্ণের চেইন, ৩টি স্বর্ণের আংটি, ৩ জোড়া স্বর্ণের দুল, ৪টি ড্রামা থাকা ২০০ কেজি চাউল, বেড়ে থাকা ২০ মন ধান, ৩টি সেলিং ফ্যান, ৩টি সেমি বক্স খাট, ১টি কাঠের ওয়ার ড্রপ, ১টি কাঠের সুকেচ, ১ টি ডাইনিং টেবিল, ১টি কাঠের আলনা, ৩টি যাজিম, ৩টি লেপ, ৬ টি কাঠের চেয়ার, ১২টি প্লাসটিকের চেয়ার, ১০ জোড়া কবুতর, ৮ জোড়া মুরগী এবং পি.এস.সি ও জি.এস.সির মূল সনদপত্র হাতিয়ে নেয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, মামলার এজহারে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, আমার সৎ বোন রিয়া খাতুনের সাথে বাচ্চা মিয়ার মিয়ার পালিত ছেলে আবু রায়হান (১৪) এর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে রিয়া খাতুনের অন্যাত্র বিবাহ হওয়ায় আবু রায়হান তাকে ভূলে যায় এবং পড়ালেখায় মনোযোগী হয়। একপর্যায়ে আবু রায়হান তার বন্ধু শাকিলের বাড়িতে যাতায়াতের সুবাধে শাকিলের চাচাতো বোনের সাথে আবু রায়হানের এর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তা নিয়ে শাকিল ও আবু রায়হানের মধ্যে দ্বন্দও তৈরি হয়। অথচ, আবু রায়হান খুনের ঘটানায় সম্পর্ক যার সাথে ছিল তাকে কিংবা তার বাবা মাকে আসামী না করে সাবেক প্রেমিকা রিয়া খাতুন যার বিবাহের ১ বছর ৯ দিন পরে আবু রায়হান খুন হয় তার বাবা, মা এবং আমাকে উক্ত খুনের মামলায় আসামী করে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফাঁসানো হয়েছে। আরো বড় সত্য হচ্ছে যে, আবু রায়হান ছিল বাচ্চা মিয়ার একমাত্র পালিত ছেলে এবং সম্পত্তির হকদার। যদি আবু রায়হান না থাকে তাহলে সে সম্পত্তির মালিকানা বাচ্চা মিয়ার আত্মীয়স্বজন পাবে এটাই সত্য । সে হিসাবে তাদেরকে কেন আসামী করা হয়নি তা আমার বুঝে আসে না। শুধু তাই নয়, মামলাটি সিআইডি সুষ্ঠভাবে তদন্ত না করে ০৮ জুন ২০১৯ ইং আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসিট দাখিল করে।
সিআইডির এ তদন্তে আবু রায়হান হত্যা কান্ডের মূল রহস্য উৎঘাটন হয়নি বরং আমাদের স্বাভাবিক জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। তাই আমি, আবু রায়হান হত্যা মামলার প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরপরাধ মানুষগুলোর অব্যাহতির জন্য মামলাটি পুনঃতদন্ত করার জোড়ালো আবেদন জানাচ্ছি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি’র সু-দৃষ্টি কামনা করছি। সাদিকুল ইসলাম আরো বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই, মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত করে তদন্তে যদি আমি এবং আমার পরিবারের কেউ জড়িত থেকে থাকি তাহলে আদালত যে শাস্তি দিবে তা মাথা পেতে নিব। আর যদি মামলার সাথে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা না থাকে তাহলে উক্ত মামলা থেকে আমরা যেন অব্যাহতি পাই এবং আমাদের বিরুদ্ধে যেন সমস্ত হয়রানী বন্ধ করা হয়। নিরপরাধ হয়ে বাঁচতে চাই। মিথ্যা হত্যা মামলার আসামী হয়ে খুনীর তকমা নিয়ে বাঁচতে চাই না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বাঁচান, আমি নির্দোষ। আমাদেরকে বাঁচার সুযোগ দিন।


