21.2 C
Munich
Tuesday, June 16, 2026

ভুমিদস্যু জীবনের প্রতারনায় সর্বশান্ত ভূমি মালিকরা

Must read

জামালপুর প্রতিনিধি :
জমিদখল,ঠকবাজি,প্রতারনা ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ভুমি মালিকদের হয়রানীর মুখে সর্বশান্ত করছে ভুমিদস্যু এমদাদুল হক জীবন। ভুমি মালিকদের কাছে মুর্তিমান আতংকের নাম জীবন। তার কবলে পড়ে অসংখ্য ভুমি মালিক সর্বশান্ত হয়ে পথে বসেছে।
 ক্ষমতাসীনদলের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম করছে হাইবিট এই আওয়ামীলীগ নেতা। একসময় জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। পরে বিএনপি হয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের ছায়াতলে ভিড়েছেন। সরকার আসে সরকার যায় জীবনের ভুমিদস্যুতার গতি থাকে একই রকম। মতলববাজ এই ভুমিদস্যু এবারও ভোলপাল্টে অর্থ ছিটিয়ে ক্ষমতাসীনদলের বিভিন্ন পর্যায়ের কতিপয় নেতাকর্মীদের সাথে গড়ে তুলেছেন বিশেষ সখ্যতা। এই হাইবিট নেতার দাপটে মাঠ পর্যায়ের আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোনঠাসা। ক্ষমতার দাপটে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার ভুমিদস্যুতায় দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয় হওয়ায় মাঠপর্যায়ে চাপা ক্ষোভ রয়েছে বলে জানালেন ক্ষুব্ধ তৃনমুলের নেতাকর্মীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধুই কি বিএনপি- জামায়াতের কানেকশন ছিল জীবনের। জেএমবি’র কানেকশনও ছিল এই বর্ণচোরার। তার ছত্রছায়ায় জেএমবি ঘাটি খ্যাত জামালপুর শহরের শেখের ভিটা এলাকায় ছাত্রাবাসগুলোতে কর্মী রিক্রুট ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতো জঙ্গিরা। এসব ছাত্রাবাসগুলোতে পুলিশ ও র‍্যাব অভিযান চালিয়ে অসংখ্য জঙ্গি গ্রেপ্তার করেছিল। সেসময় এমদাদুল ইসলাম জীবন জেলা জামায়াতের তৎকালিন আমীর সামছুল ইসলামের দেহরক্ষি ছিল। জামায়াতের সেই আমীরকে প্রতিদিন মোটর সাইকেলের পিছনে  বসিয়ে শহরের ঘুরাফেরা করতে দেখা যেত জীবনকে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেখের ভিটা গ্রামসহ শহরের বিভিন্ন এলাকার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
কে এই জীবন ?
এমদাদুল হক জীবন, বাড়ি জামালপুর শহরের শেখের ভিটা গ্রামে। তাদের আদি বাড়ি রংপুর জেলার গ্রামে। জীবনের হতদরিদ্র বাবা ইউসুফ আলী কাজের খোঁজে জামালপুরে আসেন। মোহিনী বিড়ি কোম্পানীতে গরু রাখাল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। মোহিনী বিড়ির মালিক মরহুম সীতারাম কানুর মোসাহেবি করে গরু রাখাল থেকে এক লাফে কোম্পানীর সরকার(ক্যাশিয়ার) সবশেষ ম্যানেজার পদ বাগিয়ে নেন। বিয়ে করেন জামালপুর শহরের শেখের ভিটা গ্রামের বিড়ি শ্রমিক জেসমিনকে। এই দম্পত্তির দৃশ্যমান বৈধ-অবৈধ এসব আয়ের আড়ালে ছিল অদৃশ্য আয়ও। লাফিয়ে বাড়তে থাকে অর্থ সম্পদ। খুব অল্প সময়ে বাড়ি গাড়ি বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক বনে যান।
বাবার অর্থসম্পদ প্রথম দিকে জীবন জামায়াতের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে ও সংগঠনে অর্থ লগ্নি করেন জীবন। সেই সময়ে জেলা জামায়াতের আমীর সামছুল ইসলামের নজরে পড়েন। তাদের মধ্যে গড়ে উঠে বিশেষ সখ্যতা। ওই জামায়াত আমীরের দেহরক্ষী দায়িত্বপালনকালে সর্বসময় শহরে মোটর সাইকেলে ঘুরাফেরা করতে দেখা যেত জীবনকে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার গঠনের পর সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। বিএনপির মিছিল মিটিংয়ে সামনের কাতারে দেখা যেত জীবনকে। নিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত সরকারের নানা সুবিধা। তার জমি ব্যবসা,ভুমি দস্যুতা,প্রতারনাসহ নানা অর্পকর্ম ও ব্যবসা বানিজ্য টিকিয়ে রাখতে বছর দুয়েক আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের যোগ দেন। খুব অল্প সময়ে মোসাহেবী ও ভুমিদস্যুতা থেকে আয় করা টাকা ব্যায় করে দলে তৈরী করেছেন শক্ত অবস্থান। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে জমি দখল, ফাঁদে ফেলে কমমুল্যে ভুমি মালিকদের জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা, আবার নিজের নামে বায়নপত্র বাবা-মার নামে সাব কবলা রেজেষ্ট্রি করে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে বয়নাপত্রের শর্তভঙ্গের অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে জমি মালিকদের হয়রানী অভিযোগ উঠেছে জীবনের বিরুদ্ধে।
তার ফাঁদে পড়ে প্রতারনার শিকার জামালপুর শহরের কাচারীপাড়ার ভুমি মালিক অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী সচিব মরহুম খলিলুর রহমানের স্ত্রী শিরিন রহমান বলেন, শহরের মনিরাজপুরে আমার ৭৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২৪ শতাংশ জমি ১০ লাখ টাকা মুল্যে সাব কবলা রেজেষ্ট্রি করে কিনে নেয় এবং একই দিন ৫২ শতাংশ জমি ১০ লাখ টাকা পরিশোধ দেখিয়ে বয়নাপত্রে স্বাক্ষর নেয়। আমার হাতে ১০ লাখ টাকা দেয়। বয়নাপত্রের ১০ লাখ টাকা দাবী করলে বলে আপনার সাথেতো হিসাবকিতাব শেষ হয়নি। বয়নাপত্রের চুক্তি অনুযায়ী ৩মাস পর জমি সাব কবলা রেজেষ্ট্রি করে নেয়ার সময় এই ১০ লাখ টাকা যোগ করে দিবো। বায়নার সময়সীমা ৩মাস শেষে ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও জমি রেজেষ্ট্রি করে নেয়না। নিয়ম অনুযায়ী বায়নাপত্র বাতিল হয়ে যায়। অনেক তাগাদার পর অন্যত্র আমি জমি বিক্রি করে দেয়। ওই বয়নাপত্র দাবি করে আমার বিরুদ্ধে বায়নাপত্রের চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে মিথ্য মামলা দায়ের করে। আমার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার খবর শুনে আমার স্বামী খলিলুর রহমান স্ট্রোক করে দুই মাস বিছানায় শয্যাশায়ী থেকে মারা যায়। আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে দর্ীঘদিন ধরে হয়রানী করে আসছে ভুমিদস্যু জীবনের প্রতারনা ও হয়রানীর হাত থেকে মুক্তি চান এই বিধাব অসহায় নারী।
এমনই প্রতারনার শিকার শহরের সর্দরপাড়ার পাঁচরাস্তা মোড়ের মরহুম আইয়ুব আলীর স্ত্রী মাসুমা হুসনী অভিযোগ করে বলেন, আমার মতো অসংখ্য ভুমি মালিক জীবনের খপ্পরে পড়ে হয়রানীর শিকার কেউ কেউ সর্বশান্ত হয়েছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় এতিম মেয়েদের মানুষ করার জন্য। সিংহজানী মৌজার শেখেরভিটা এলাকায় আমার ২৭ শতাংশ জমি এমদাদুল হক জীবন নিজ নামে বায়নাপত্র করেন ২০১২ সালে। পরে তার বাবা ইউসুফ আলীর নামে সাব কবলা রেজেষ্ট্রি করে নেয় কৌশলে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় বাবা ছেলের ছলচতুরী বুঝতে পারিনি। পরে ২০১৫ সালে আমার নামে বায়নাপত্রভঙ্গের উকিল নোটিশ করে। একই দাগে বাকি ১৮ শতাংশ জমি গ্রাস করার জন্য ২০২০ সালে জীবন বাদি হয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অবশিষ্ট থাকা ১৮ শতাংশ জমিতে দেয়াল নিমার্ন করতে গেলে তার লালিত পালিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে বাঁধা দেয়। জমিতে আসলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দেয় জীবন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। কথায় কথায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের দাপট দেখায়। আবার শুনছি, জীবন ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হতে যাচ্ছে। এক সময় প্রকাশ্য জামায়াত করে বেড়ানো এমন একজন মানুষ আওয়ামীলীগের সভাপতি হলে এলাকায় আমাদের বসবাস করা দ্বায় হয়ে পড়বে। এই হাইবিট আওয়ামীলীগ নেতার অত্যচার নির্যাতন ও হয়রানী থেকে মুক্তি পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করেছেন এই ভুক্তভোগী অসহায় নারী।
মাদারগঞ্জের কয়রা গ্রামের জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগে বলেন, জামালপুর শহরের শেখের ভিটা এলাকায় আজম চত্বরে আমার ৫ শতাংশ জমি জবর দখল করে দেয়াল নিমার্ন করেছে। ভয়ে জমিতে যেতে পারছিনা। জমি দখলের অভিযোগ করেছেন শহরের সর্দারপাড়া পাঁচরাস্তা মোড়ের রাহেলা বেগম। তার শেখের ভিটা এলাকায় আজম চত্বরে ৫ শতাংশ জমি দখল করে রেখেছে জীবন। জমিতে প্রবেশ করলে হাত-পা ভাঙ্গাসহ প্রাণনাশের হুমকী দেয় জীবনের ভাই জনিসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা।
শিরিন রহমান,মাসুমা হুসনী,জান্নাতুল ফেরদৌস ও রাহেলা বেগমের মতো এনামুল হক,আব্দুল কাইযুম পলাশ,মির্জা ফকরুজ্জামান,হেলালুল ইসলাম,মোহাম্মদ শাহজাহানসহ অসংখ্য ভুমি মালিক জীবনের খপ্পরে পড়ে জমি বেদখল, মিথ্যা মামলা ও হয়ারনীর শিকার হয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্ত কেউ কেউ পথে বসেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে এমদাদুল হক জীবন বলেন, আমি বিএনপি জামায়াত করি নাই, জমি দখল,প্রতারনাসহ ভুমিদস্যুতার অভিযোগ সঠিক নয়।
- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article