মাসুদ উল হাসান ॥ বকশীগঞ্জে পৃথক পৃথক কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে বকশীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ ও উপজেলা ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার পৌরশহরের পাটহাটি মোড়,পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও মালিবাগ মোড় এলাকায় তিনদফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এই নিয়ে পৌর শহরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে সতর্কবস্থায় রয়েছে পুলিশ।
ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উভয় পক্ষই নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করে একে অপরকে দোষারোপ করছেন।
জানা যায়, সম্প্রতি ধর্ষনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড মন্ত্রীসভায় অনুমোদন দেয়ায় রোববার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ এবং মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও গণ র্যালির আয়োজন করে বকশীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ। একই দিনে কর্মসূচী দেয়ায় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। তাই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দুই গ্রুপকে নির্ধারিত সময় বেধেঁ দেয় স্থানীয় প্রশাসন। পৌর আওয়ামীলীগকে সকাল ১০ টায় ও উপজেলা ছাত্রলীগকে দুপুর ১২ টায় র্যালি ও আলোচনা সভা করার জন্য বলা হয়। এই কর্মসূচীকে ঘিরে রোববার সকাল থেকেই বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বকশীগঞ্জ বাজারে জমায়েত হতে থাকে।
জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শিল্পপতি আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন সমর্থিত পৌর আওয়ামীলীগের র্যালিতে যোগদিতে আসা নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদের সামনে সরকারি ভোকেশনাল মাঠে এবং বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শিল্পপতি নূর মোহাম্মদ সমর্থিত ছাত্রলীগের কর্মসূচীতে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীরা উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়।
সকাল ১১ টায় মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বকশীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ একটি আনন্দ মিছিল বের করে। এর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি আনন্দ র্যালি বের করে ছাত্রলীগ।
পৌর আওয়ামীলীগের মিছিলটি উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে বের হয়ে টিএনটি রোড হয়ে পাটহাটি মোড় এলাকায় পৌছঁলে ছাত্রলীগের মিছিলের মুখোমুখি হয়। পৌর আওয়ামীলীগের মিছিলে ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এই ঘটনায় পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহবায়ক আগা সাইয়ুমের দাবি ছাত্রলীগ সভাপতির নেতৃৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিলে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা চালায়। অপরদিকে ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জুমান তালুকদারের দাবি কোন কারন ছাড়াই পৌর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে।
পরে মিছিলটি মধ্যবাজার হয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌছলে দ্বিতৃীয় দফা আবারো ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। তৃতীয় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাটি ঘটে উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে মালিবাগ মোড়ে। এ সময় উভয়পক্ষ মারমুখী অবস্থান নিয়ে বকশীগঞ্জ-কামালপুর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। পৌর আওয়ামীলীগের মিছিলে যোগদানকৃত নেতাকর্মীরা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেয়। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মেডিসিনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সংঘর্ষে বকশীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক আগা সাইয়ুম ও বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম তালুকদার জুমানসহ উভয় পক্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়।
পুলিশের উপস্থিতিতে অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে বকশীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ উপজেলা পরিষদের সামনে ভোকেশনাল স্কুল গেটে ও ছাত্রলীগ উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা করে। পৌর আওয়ামীলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি এস.এম ওমর আল ফারুক,পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহবায়ক আগা সাইয়ুম,যুবলীগ নেতা খন্দকার শামীম আহম্মেদ ও উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহানারা বেগম প্রমূখ।
অপরদিকে আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তালুকদার জুমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন বাবুল তালুকদার,সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন জালাল,সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহমিনা আক্তার পাখি,উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী শামীম,ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাছানুজ্জামান সজিব, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফরহাদ রেজা প্রমূখ।
বকশীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহবায়ক আগা সাইয়ুম বলেন,আমাদের নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খল ভাবে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিছন থেকে অতর্কিত হামলা করে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদের প্রত্যাক্ষ মদদে এই হামলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছ্ড়াাও এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি করেন তিনি।
বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম তালুকদার জুমান বলেন,কোন কারন ছাড়াই আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন,শাহিনা বেগম ও এমপি মহোদ্বয়ের সমর্থিত নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ছাত্রলীগের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয় বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম সম্রাট জানান, ভূল বুঝাবুঝির কারনে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশি তৎপরতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়েছে। তার পরেও বাড়তি শতর্কতার জন্য শহরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।


