18 C
Munich
Tuesday, May 26, 2026

প্রাক্তন এমপিএ বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেন আর নেই

Must read

মাসুদ উল হাসান ॥
সাবেক প্রাদেশিক আইন পরিষদ সদস্য বিশিষ্ট আইনজীবি বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেন (৮৩) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যু কালে স্ত্রী, ৪ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ সকাল ১১ টায় পাখিমারা নিজ বাড়িতে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার লাশ দাফন করা হবে। আশরাফ হোসেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাইয়ুমের বড় ভাই ও ময়মনসিংহ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক ও বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মোফাখ্খার হোসেন খোকনের পিতা।
জানা যায়, অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন ১৯৩৭ সালে পৌর শহরের পাখিমারা সরকার বাড়ি এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম মকবুল হোসেন সরকার। মাতা মরহুম আলীমুন্নেছা। আশরাফ হোসেন ৪ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। তিনি ছিলেন সবার প্রিয় অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন।
বিশিষ্ট আইনজীবি, শিক্ষানুরাগী ও রাজনীতিবিদ আশরাফ হোসেন ১৯৫৮ সালে জামালপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি,১৯৬০ সালে জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে আই এ, ১৯৬২ সালে বিএ এবং ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করে ময়মনসিংহ বারে যোগ দিয়ে আইন পেশা শুরু করেন। তিনি ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৫৮ সালে গঠিত ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন ফ্রন্টের অন্যতম নেতা ছিলেন। জামালপুর জেলা হিসাবে ঘোষিত হওয়ার পর প্রথম পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১ থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। এছাড়াও ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ছাত্র জীবন থেকেই স্বাধীনচেতা মানুষ ছিলেন। স্কুল জীবনেই ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজ প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রনী ভুমিকা পালনসহ এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রথম নির্বাহী কমিটির আহবায়ক, খয়ের উদ্দিন সিনিয়র মাদ্রাসা ও উলফাতুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়সহ বহু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।
তিনি একজন সফল অভিভাবক। ৪ পুত্র এবং ১ কন্যা সন্তানের জনক। তার বড় ছেলে ইফতেখার হোসেন পলাশ একজন সফল ব্যবসায়ী, মেজো ছেলে এনায়েত হোসেন বিজয় আয়কর আইনজীবি, ৩য় ছেলে মোফাখখার হোসেন খোকন সফল ব্যাবসায়ী ও রাজনীতিবিদ, ছোট ছেলে নাজমুল হাসান রুপন হাইকোর্টের আইনজীবি। তার একমাত্র কন্যা সাজিয়া আফরীন রীমা রুপালী ব্যাংক লি: এর প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article