মাসুদ উল হাসান ॥ কথা রাখলেন বকশীগঞ্জ থানার মানবিক অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম সম্র্রাট। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিজ অর্থায়নে অসহায় শতবর্ষী বৃদ্ধা হাজেরা বেগমের থাকার জন্য ঘর নির্মান করে দিলেন তিনি। ঘরের কাজ প্রায় শেষ। দুই একদিনের মধ্যেই ওসির দেয়া ঘরে উঠবেন হাজেরা বেগম। বুধবার সন্ধায় দেওয়ানগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেলকে নিয়ে চাল-ডাল-আলু-তেল-চিনি-সাবান-ডিটারজেন্ট পাউডার-মুরগী,আপেল-কমলা-বিস্কুট-কলা-শুকনো খাবার,মিষ্টিসহ নানা খাদ্য কিনে অসহায় হাজেরা বেগমের বাড়িতে যান ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাট। সেখানে গিয়ে অসহায় হাজেরা বেগমের শারিরীক খোজ খবর নেন দেওয়ানগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল। এ সময় হাজেরা বেগমকে সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় এস আই শরীফ,বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম শাহীন আল আমীন,সাংবাদিক এম এ ছালাম মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়,হাজেরা বেগম। বয়য় ১০০ ছুইছুই। বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় মধ্য পলাশতলা সকাল বাজারের কাছাকাছি হাজেরা বেগম তার বোনের ভাংগাচোড়া রান্নাঘরে রাত কাটাতেন। ছেলে মেয়ে, স্বামী বা আপন বলতে কেউ নেই। প্রায় ৪০ বছর আগে তার স্বামী মারা গেছে। এর পর থেকেই ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নিবার্হ করেন। বয়স শত বছর ছুইঁ ছুইঁ। কিন্তু তার ভাগ্যে বয়স্ক ভাতা, বিধবাভাতা কিছুই জুটেনি। পাননি ভিজিএফ, ভিজিডিসহ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। কোন জনপ্রতিনিধির সু-নজরেও পড়েননি তিনি। করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় হাজেরা বেগম বেশি সমস্যায় পড়ে যান।
গত প্রায় পাচঁমাস পূর্বে বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক এম শাহীন আল আমীন অসহায় হাজেরা বেগমকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেন। স্থানীয় দৈনিক গণজয় পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পরেই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নজরে আসে। তাৎক্ষনিক সহযোগীতার হাত বাড়ান ইউএনও আ.স.ম জামশেদ খোন্দকার,ওসি শফিকুল ইসলাম সিম্রাট,ভাইস চেয়ারম্যান মাসুমা ইয়াছমিন স্মৃতি ও ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম তালুকদার জুমান। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে অসহায় বৃদ্ধা হাজেরা বেগমের দায়িত্বভার গ্রহন করেন বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম সম্রাট। ঘোষনা দেন যতদিন বকশীগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকবেন ততদিন ওই বৃদ্ধার দায়িত্বভার বহন করবেন। সেই সাথে তাকে একটি ঘর নির্মান করে দিবেন তিনি। যেই কথা সেই কাজ। শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতি মাসের ১ তারিখেই পুরো মাসের বাজার করে হাজেরা বেগমের কাছে দিয়ে আসেন তিনি। এ যেনো মায়ের প্রতি এক দায়িত্ববান সু- সন্তানের কর্তব্য পালন। এতে করে হাজেরা বেগম আর ভিক্ষাবৃত্তি করেন না। কথায় আছে যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছেন। ওই অসহায় মায়ের কাছে ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাটকে মানবতার দূত হিসেবে সৃষ্টিকর্তা পাঠিয়েছেন। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মানুষ মানুষের জন্য এতকিছু করে বকশীগঞ্জ থানার মানবিক অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম সম্রাট তার দৃষ্টান্ত উদাহরন।
বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)শফিকুল ইসলাম সম্রাট বলেন,মানবিক কারনেই আমি অসহায় বৃদ্ধা মায়ের দায়িত্ব নিয়েছি। মানুষ মানুষের জন্য তাই এটা একজন মানুষ হিসেবে আমার দায়িত্ব বলে মনে করি। যতদিন বাচঁবো জনকল্যানে কাজ করে যাবো।
উল্লেখ্য,পুলিশ জনগণের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ সেবার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে থাকেন। দেশ এবং জনগণের জন্য নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। জীবনের ঝুকি নিয়ে জনসাধারণের জন্য কাজ করেন। এ ধরণের পুলিশ কর্মকর্তাদের কর্মকান্ডের কারণে জনগণ পুলিশকে পরমবন্ধু হিসাবে মূল্যায়ন করে থাকে। এমনই একজন পুলিশ কর্মকর্তা বকশীগঞ্জ থানারর ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাট। যিনি নিজেকে কখনও ওসি হিসাবে নয়, জনগণের একজন সেবক হিসাবে অতিসাধারণ বেশে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। যোগদানের পর জনস্বার্থ ও মানবিক সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি কাজে তিনি স্থানীয় জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক এবং অপরাধীদের কাছে মূর্তিমান আতংক। ওসি সম্রাটের ন্যায় দেশের প্রতিটি পুলিশ অফিসার সেবার এমন প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে জনগণের পরমবন্ধু হিসাবে পরিচিতি লাভ করুক এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।


