মাসুদ উল হাসান॥ অনেকে মনে করেন বিয়ের পর মেয়েদের পড়াশোনা হয় না। আবার লেখাপড়া করলেও কোনো রকমে শেষকরা। সমাজের প্রচলিত এ ধারণাকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়েছেন বকশীগঞ্জের কৃতি সন্তান অদম্য মেধাবী জান্নাত। স্বামীর সংসার সামলিয়ে ৩৮ তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। জান্নাত বকশীগঞ্জ পৌর শহরের মালিবাগ সৌদিয়া হাউজের মালিক আলহাজ্ব ওয়াদুদ ও জাহিদা ইয়াসমিনের কন্যা। তার স্বামীর নাম আরিফুর রহমান রাসেল। তিনি পেশায় একজন ব্যাংকার।
জানা যায়,জান্নাত ২০০৬ সালে বকশীগঞ্জ উলফাতুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক এবং ২০০৮ সালে শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তারপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তি হয়ে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময়ই বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে । বিয়ের পরেও দমে যাননি তিনি। লক্ষ্যে পৌঁছতে স্বামীর সংসার ও নিজের চাকুরি সামলিয়ে তিনি তার অদম্য মেধা দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং পেয়ে যান সাফল্য। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। ৩৮ তম বিসিএসএ প্রশাসন ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। বাবা-মা ও স্বামীর অনুপ্রেরণায় তার এই সাফল্য বলে জানান তিনি। তার এই সাফল্যে বাবা-মা-স্বামীসহ আত্বীয় স্বজনরা আনন্দিত।
পরিবারের উৎসাহ সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে: ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো আমাকে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। পড়াশোনা করে পরীক্ষায় যাতে ভালো রেজাল্ট করতে পারি সেদিকে সব সময় পরিবারের কড়া নজরদারি ছিল। আর বিয়ের পর স্বামীর সহযোগিতা আর অনুপ্রেরণা থাকার কারণে এ সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি আমি।আসলে আমার এই সাফল্যের পিছনে পরিবারের সকলের অবদান রয়েছে। তবে আমার স্বামী আরিফুর রহমান রাসেলের অবদান অনেক অনেক বেশি।
ভবিষ্যৎ নিয়ে যা ভাবছেন তিনি: সরকারি আদেশ-বিধান অনুযায়ী স্বচ্ছতার সহিত কাজ করে যাবো। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং দেশ ও মানুষের কল্যানে নিরলস ভাবে কাজ করে যাব। আমি যাতে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে যথাযথভাবে পালন করতে পারি সেইজন্যে বকশীগঞ্জবাসীসহ সকলের কাছে দোয়া প্রত্যাশা করছি।


