স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহে ক্লাব পট্টিতে জুয়া বন্ধ করেছিল র্যাব-১৪। এরপর সম্প্রতি কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বদলী পর ফের ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন স্থানে জুয়া আসর বসে গেছে। করোনা চলা সময়ে শহরতলী শম্ভুগজ্ঞ ও ভাবখালীতে ওয়ান-টেন নামক ভয়ংকর জুয়া চালানো হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও ৯৯৯ নাম্বারে কল করার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ফের শুরু হয়েছে তাসের জুয়া। ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানা এলাকায় কমপক্ষে ২০ টি স্থানে জুয়া আসর চলছে। ময়মনসিংহের পুলিশ ২/৩ টি সফল অভিযান পরিচানা করেছেন। তারপরও বেশ কয়েকটি চিহ্নীত স্থানে তাসের জুয়া খেলা অব্যাহত রয়েছে।
করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতায় ও অভাব গ্রস্থ মানুষের মাঝে ময়মনসিংহের পুলিস সুপার যখন সরাসরি মাঠে থেকে কাজ করছেন ঠিক সেই সময় অসাধু ব্যক্তিরা কোন ব্যক্তির সবুজ সংকেতে জুয়ার আসর বসিয়ে লাভবান হচ্ছে। জনসমাগম হতে সরকার যেখানে সতর্কমূলক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, সেখানে প্রতিনিয়ত জুয়ার আসরে লোকজন মিলিত হচ্ছে। ক্লাব পট্টিতে জুয়া বন্ধ হবার পর গত দেড়-দুমাস ধরে ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে, রাজনৈতিক দলের সাইনবোড লাগিয়ে, কতিপয় বিভিন্ন ক্লাবে, শহরতলীর বিভিন্ন বাজারে ঘরের ভিতর দিবা-রাত্র জুয়া চলছে। এ সকল জুয়ার বিডারগণ প্রতারক সাহেদের মতই স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতি দলের প্রভাশালী নেতা কিংবা ক্ষমতাধর ব্যক্তির দরবারে আসা-যাওয়া রয়েছে।
শহরের কাঠগোলা পুস্পমেলা ক্লাবে হয় বারোমাসী জুয়া, বাঘের কান্দা, পন্ডিত বাড়ির একটিতে, বড় কালিবাড়িতে রাজনৈতিক দলের ব্যানারে একটি অফিসে, মুক্তিযোদ্ধা আবাসন পল্লীর একটি ঘরে, দাপুনিয়া বাজারে স্কুলের পাশে, বুধবাড়িয়া বাজারে, কেওয়াটখালী রেল কোয়াটারে, শম্ভুগজ্ঞ কালিবাড়িতে, শম্ভুগজ্ঞ বাজারে, ঘুন্টি মাঠ-পাড়ে, ভাবখালি বাজারের একটি ঘরে, পরানগজ্ঞ বাজারে, বেগুনবাড়ি উত্তর বাজারে, শহরের কলেজ রোডের একটি বাসায়, এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট জুয়ার আসর বসে। করোনা মোকাবিলায় জনসমাগম বন্ধে সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, হাটবাজারে সীমিত সময় বেঁধে দিলেও তাসের জুয়া চলছে মুখোমুখি বসে।
বুধবারিয়া বারের জুয়ার আয়োজক মেম্বারের ভাতিজা জানায়, সব ম্যানেজ করেই জুয়ার বোর্ড বসিয়েছি। বিভিন্ন জুয়ার আয়োজকদের একই কথা। জুয়ার বিরোধীতাকারী সমাজে অনেকেই জানান, পুলিশকে রাতে ফোন দিলে সকালে আসে। পরে আমাদের উপর পুলিশ রাগ হয়।


