সুমন ভৌমিকঃ ভিয়েতনামে উচ্চ বেতনে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে আশ্বাস দিয়ে টাকা নেয় স্থানীয় এক প্রতারকচক্র। প্রলোভনে পড়ে ফুলপুরের মোকছেদুল ইসলাম, আকরাম হোসাইন, মোরসালিন মিয়া ও এরশাদ আলী স্থানীয় এক প্রতারকচক্রকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকাসহ মোট ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে বিদেশে পাড়ি দেয়। ফুলপুরের ওই ৪ জন ভিয়েতনামে গিয়ে ৫ মাস যাবৎ নির্যাতনের স্বীকার হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে মর্মে বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেইজ-এ একটি পোষ্ট করে।
বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেইজ-এ ওই পোষ্টটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারকে তথ্য প্রদান করেন।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামান (পিপিএিম-সেবা) মানবিক বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রতারক চক্র সনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থ্ গ্রহণের জন্য ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ প্রদান করেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশ পেয়েই ময়মনসিংহের ডিবি পুলিশ মাঠে নেমে যায়। ডিবি’র চৌকস ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মোঃ কামাল আকন্দ (পিপিএম-বার) ডিবি’র টিম নিয়ে বসেন এবং পরিকল্পনা করেন। ওসি ডিবি’র অত্যান্ত বিশ্লেষন ধর্মী সূক্ষ্ম চিন্তায় ডিবি টিম ফুলপুরে তদন্তে করে মানব পাচারচক্রকে সনাক্ত করে। ২৭ জুন শনিবার রাত ৮ টায় ফুলপুরের তিতপুর গ্রামের কাজী শিব্বির আহম্মেদের ছেলে মানব পাচারকারী মূলহোতা কাজী সালেহ আহাম্মদ ওসমানী (মাসা) (৩৬) কে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মানব পাচারচক্রের গ্রেফতারকৃত মূলহোতা কাজী সালেহ আহাম্মদ ওসমানী (মাসা) পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে মানবপাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নেয়। পরে এই ঘটনায় ভুক্তভোগীদের নিকট আত্বীয় ইউসুফ আলী ২৭ জুন বাদী হয়ে ফুলপুর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করে। মামলা নং-২০।
গ্রেফতারকৃত মানব পাচারচক্রের মূলহোতা কাজী সালেহ আহাম্মদ ওসমানী (মাসা)-কে রিমান্ড চেয়ে রবিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


