সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ সদর-৪ মর্যাদাপূর্ন আসন। আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে স্বীকৃত। এটি ময়মনসিংহের মাটি ও মানুষের নেতা, রাজনীতির প্রাণপুরুষ সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের নির্বাচনী এলাকা। তিনি ময়মনসিংহের জীবন্ত কিংবদন্তী ও রাজনৈতিক অঙ্গণের অবিসংবাদিত নেতা। জনগগনের প্রত্যাশা ছিল ময়মনসিংহ সদরে আওয়ামীলীগের এমপি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জনপ্রিয়তায় বিকল্পহীন মতি স্যার দশম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন ছেড়ে দিলে জাতীয় পার্টি এই মনোনয়ন পায়।
মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান দশম জাতীয় নির্বাচনের পর জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। সততা ও নিষ্ঠার সাথে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেছেন। একাদশ নির্বাচনে আবারো গুরুত্বপুর্ণ এই আসনে আওয়াসীলীগকে মনোনয়ন না দিয়ে জোটের শরিক হিসাবে জাতীয়পার্টিকে আসনটি ছাড় দেয়া হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করলেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাকে আদর করে ডাকতেন ‘মতিমালা’ (মতি স্যার) তাকে মন্ত্রিত্ব দেয়া হয়নি।
ময়মনসিংহের রাজনৈতিক অভিভাবক ও বর্ষীয়ান জননেতা মতি স্যার সাড়াটা জীবন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ৫৭ বছর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি দীর্ঘ একযুগ ময়মনসিংহ জেলায় সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের দুর্দিনে আন্দোলনে রাজপথ কাঁপানো এই পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা বহু মামলা-হামলা সহ্য করে একমুঠোতে আওয়ামীলীগ রাজনীতি শক্ত হাতে ধরে রেখেছেন। খেটেছেন বহুবার জেল। বোমা হামলার মামলা ও মিথ্যা মামলায় কারাবরণ ছাড়াও ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে দীর্ঘ ২৩ মাস কারাভোগ করেন।
২০০৭-০৮ সনে ওয়ান ইলেভেনের সময় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মাইনাস ফর্মূলায় ফেলে নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র সর্বপ্রথম রুখে দিয়ে ছিলেন অধ্যক্ষ মতিউর রহমান । প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিলেন ‘নো শেখ হাসিনা নো ইলেকশন’। তিনি সংস্কারপন্থীদের হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন ভালুকার মাটিতে পা রাখলে ‘কাল্লা’ থাকবে না। অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জিয়া ও এরশাদ সরকারের প্রলোভন উপেক্ষা করে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে আওয়ামীলীগের রাজনীতির প্রতি অবিচল থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। যার স্বীকৃতি স্বরুপ ময়মনসিংহ জেলায় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি নির্বাচিত হন। এই জনগুরুত্বপুর্ণ নেতা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগ জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে দু’বার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে সম্মানিত করেছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ সদর-৪ আসন থেকে ১৯৮৬, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জননেত্রী আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দিলে তিনি তিনবার অধিক ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ময়মনসিংহের উন্নয়নের রূপকার অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ময়মনসিংহ পৌরসভার তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, তিনবার সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী থাকাকালে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে মন্দির-মসজিদ, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ সহ সকল সেক্টরে উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন।
দশম সংসদ নির্বাচনে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ময়মনসিংহ-৪ সদর আসন ছেড়ে দিলে, জননেত্রী তাকে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু একাদশ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আসনটি আবারো ছেড়ে দিলে বঞ্চিত করা হয়। শুধু তিনিই নন-বঞ্চিত হয় ময়মনসিংহবাসী। যদিও অনেক পরে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য করা হয়। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ মারা যাওয়ায় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়টি খালি থাকায় ময়মনসিংহ সদরবাসী আবারো জোড়ালো দাবি তুলেছেন, অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে মতি স্যারের বিশেষ ভূমিকা ও অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এই জনদাবি ও জনপ্রত্যাশা। আর জনদাবি ও জনপ্রত্যাশাই মতি স্যারের জনপ্রিয়তার ম্যাজিক। অন্যদিকে ময়মনসিংহের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বলেছেন বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য মতিমালা-মতি স্যার মন্ত্রী হবেন জনপ্রত্যাশা। অপরদিকে সহযোদ্ধারা বলছেন দক্ষ সংগঠক হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে পুনরায় মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই। ময়মনসিংহের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ মনে করেন তাদের প্রাণের দাবি ও জনপ্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহবাসীকে উপহার দিবেন।


