Tuesday, September 15, 2026

ময়মনসিংহে ৪৮ ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর ডিবি’র অভিযানে লাভলীর খুনি গ্রেফতার

Must read

সুমন ভৌমিকঃ গত ১০ জুন ফুলবাড়িয়ার শ্রীপুর গ্রামের কচু ক্ষেতে এক নারীকে হত্যা করে বিবস্র অবস্থায় অজ্ঞাত হিসাবে লাশ ফেলে খুনি পালিয়ে যায়। হত্যাকান্ডের পর র‌্যাব, সিআইডি পুলিশ, পিবিআই পুলিশ ও ডিবি পুলিশ তদন্তে নামে। ডিবি পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্বাসরুদ্ধকর একটানা ৪৮ ঘন্টার সফল অভিযানে শুক্রবার রাতে খুনি রাজাবালিকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

জানা যায়, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা) নির্মম হত্যকান্ডকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত লাশের পরিচয় ও খুনিকে গ্রেফতার করতে ফুলবাড়িয়া থানা ও ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দেন।
হত্যাকান্ডটির রহস্য দ্রুত বের করতে পুলিশ সুপার ডিবি’র দক্ষ অফিসার ইনচার্জ শাহ মোঃ কামাল আকন্দকে নির্দেশ দেন মামলার তদন্ত পরিচালনা করে লাশের পরিচয় নিশ্চিত ও খুনিকে গ্রেফতার করতে।

পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশে ডিবি’র অফিসার ইনচার্জ শাহ মোঃ কামাল আকন্দের তত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ডিবি’র একটি টিম তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ সূত্র জানায়, বিবস্র নারীর লাশের পাশে থাকা একটি বেনেটি ব্যাগে একটি মোবাইল নম্বর এর সন্ধান মিলে। ওই মোবাইল নম্বর এর সুত্রে নিহত নারীর আত্নীয় আল আমীন সাথে কথা হয়। ডিবি পুলিশ আল আমীনের কাছে নিহত নারীর ছবি পাঠায়। ছবিটি দেখে আল আমিন লাশ সনাক্ত করে নিহতের বাবা মজিবর রহমানকে খবর দেন। নিহত নারীর বাড়ি টাঙ্গাইল এর কালিহাতি থানার ছিন্নাই পাড়া গ্রামে। পরে মজিবর রহমান ফুলবাড়িয়া থানায় এসে লাশ সনাক্ত করে বলেন এটি তার মেয়ে লাভলী আক্তার (৩০)-এর লাশ। তিনি অজ্ঞাত আসামী দিয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা নং-১১(৬)২০২০। ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০।

পুলিশ সূত্র আরো জানায়, হত্যা মামলার পর ডিবি ওসি’র তত্বাবধানে ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়ে। ডিবি পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারে নিহত লাভলী গাজীপুরের কোনাবাড়িতে গামেন্টকর্মী হিসাবে চাকুরী করতেন। ফুলবাড়িয়া থানা এলাকায় তার কোন আত্বীয় স্বজন নাই। কোন সূত্র হাতে না আসায় ডিবি পুলিশ নিহত লাভলী আক্তারের মোবাইল ফোনের সুত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ফুলবাড়িয়ার বাক্তার শ্রীপুর গ্রামের লাভলীর খুনি রাজাবালি (৪৫)-কে শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

সূত্র জানায়, নিহত লাভলী আক্তারের সাথে গত ৯ জুন রাতে রাজাবালির সাথে কথা হয়। কথা’র সুত্র ধরেই ডিবির ওসি’র তত্বাবধানে এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ লাভলীর মোবাইল ও কাপড় উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজাবালি হত্যাকান্ড সে জড়িত পুলিশকে জানায় এবং আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে রাজাবালি পুলিশকে জানায়, লাভলী আক্তারের সাথে গত প্রায় ৬ মাস আগে মোবাইল ফোনের মিস কলের মাধ্যমে পরিচয় হয়। ফোনে’র মাধ্যমে তাদের গভীর সম্পর্ক তৈরী হয় এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভনে দেখিয়ে লাভলী আক্তারের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। ৯ জুন বিয়ের আশ্বাসে রাজাবালি গামেন্টকর্মী লাভলী আক্তারের সাথে আবারও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। লাভলী রাজাবালিকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। এরপর লাভলী ওড়না দিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্ঠা করায় রাজাবালি বাধ্য হয়ে পিছন দিক থেকে গামছা দিয়ে পেচিয়ে লাভলীকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে লাশ কচু ক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায়। জানা যায়, রাজাবালি ২০ বছর আগে রাজিয়াকে বিয়ে করে ৩ সন্তানের জনক। আর লাভলীর ৭ বছরের এক পুত্র সন্তান আছে। স্বামীর সাথে সম্পর্ক খারাপ থাকায় ২ বছর ধরে আলাদা থাকছে।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article