কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার ৩ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে জামাত, বিএনপির লোকদের নিয়ে আওয়ামী লীগের ভোটার করা হচ্ছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছে দলের নেতা কর্মিরা। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকালে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলমের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনে বলেন, ‘শফিউল আওয়ামী লীগের দালালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।নিজেদের দল ভারি করার জন্য দলে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছেন বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জনাব সফিউল আলম। বিতর্কিতদের দলে এনে ভোটার করে সম্মেলন করতে চাইছেন তিনি।
বিক্ষোভ সমাবেসে নেতা কর্মিরা বলেন দলের নিয়ম শৃঙ্খলা যারা মানেন না, পকেট ভারি করার জন্য তাদের দলে নিয়ে ব্যাক্তিগত সার্থ হাসিল করতে চাচ্ছে, আওয়ামীলীগ কি কর্মী শূন্য যে উপজেলা ছাত্রদল সাবেক সভাপতি আয়নাল হক, জামাতের রেজাইল করিম এবং শিবিরের নেতা থেকে জাতীয় পার্টির উপজেলা সাধারন সম্পাদক তার ছায়ায় আওয়ামী লীগ নেতা হয়ে গেছেন। জনাব সফিউল আলম উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক তাদের ভোটার করে সম্মেলন করতে চাইছিলেন।কিন্তু অন্যায় করে পার পাওয়া যায় না,যাবে না। যাদের পূর্ব পুরুষরা আওয়ামী লীগ করেছেন,যারা সততা বজায় রাখছেন তাদের ভোটার বানিয়ে সুন্দর সম্মেলন করার দাবী জানানো হয় ।
এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভার আয়োজনে মূল ভূমিকা পালন করেন আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা ও অধ্যাপক আব্দুর সবুর ফারুকী। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা শহরের প্রদান প্রদান সড়ক ঘুরে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়।
রাজীবপুর উপজেলা আওমীলীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হাই সরকার বলেন বিতর্কিত, যাদের বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ আছে তাদের বাদ দিতে হবে। সংগঠনে নতুন বিশুদ্ধ রক্ত আমরা চাই, আমাদের নেত্রী চান। এখানে যেন কোন ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তি, অনুপ্রবেশকারী আওয়ামীলীগে কোন পর্যায়ের নেতৃত্বে স্থান পাবে না, এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। গত ২ ডিসেম্বর উপজেলা সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করার কথা ছিল। অবৈধ কাউন্সিলর তালিকায় জামাত শিবিরের লোকজনের নাম ওই তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘গত ২ ডিসেম্বর সম্মেলন করার লক্ষ্যে শফিউল আলম পরিকল্পিতভাবে সড়েযন্ত্রমূলক আমাকে না জানিয়ে সম্মেলনের এই তারিখ নির্ধারন করেছিল। পরে আমি গিয়ে আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে কমিটির বিষয় নালিশ দেওয়ায় পরে সঙ্গে সঙ্গে ওই পাতানো কাউন্সিল স্থগিত করে দেন।’
সভাপতিকে না জানিয়ে বিএনপি ও জামাতের লোকজনদের কাউন্সিলর বানানোসহ শফিউলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান আকবর হোসেন হিরো।
জেলা পরিষদ সদস্য রেনু বেগম বলেন, বিএনপির সদস্যদের দিয়ে ত্রি বার্ষিকী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড গুলোতে নতুন ভোটার করার অভিযোগ উঠে সম্পাদকের বিরুদ্ধে। উক্ত বিক্ষোভে আরোও বক্তব্য রাখেন ৩ ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেক প্রমূখ।
বুধবার বিকেলে রাজীবপুর বাজারে উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতা কর্মিরা এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ এর আয়োজন করে।


