স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া হাবুন বেপারীর মোড় এলাকা থেকে মিলন নামের এক যুবককে একই এলাকার সন্ত্রাসীরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ব্যাপক মারধর ও চোখ উপরে ফেলে হত্যার চেষ্টায় অভিযোগ এনে ২৮ আগস্ট/২০১৯ বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সন্মেলন করেছে তার পরিবার। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মুমূর্ষ অবস্থায় আহত মিলনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে, পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে তারা জানিয়েছে।
কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, তারা এ ব্যাপারে থানায় বা তার কাছে আসেনি।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য আমরা থানায় গিয়েছি, থানা পুলিশ আমাদের গুরত্ব দেয়নি। পুলিশ বলছে মিলনের হাসপাতালের ভর্তির কাগজ এনে অভিযোগ দিতে কিন্তু থানা পুলিশ হাসপাতালের ভর্তির কাগজ আগেই নিয়ে গেছে। পুলিশ মামলা নিবে না তাই এমন করছে। আমরা সন্ত্রাসীদের হুমকী ও থানা পুলিশের অসহযোগিতায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার ২৫ নভেম্বর মধ্য রাতে তাদের মিলনকে সন্ত্রাসীরা বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পাশের কলা বাগানে নির্জন স্থানে মিলনকে দিলরুবা, মান্নান, সাব্বির, আলম, তূর্য, সাইদ, বিসিন, ফরিদ, সানি, মানিক, সালমা, বিথী, বিল্লাল, তুলি, হাছিনাসহ অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জন মিলে নির্যাতন করে। সন্ত্রাসীরা মিলনের দেহে কাটা, ফুলা বহু জখম করে। এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে কোতোয়ালী মডেল থানার অন্তর্ভুক্ত ৩ নং ফাঁড়ির ইনচার্জ দুলাল আকন্দ বলেন, আহত মিলনের নামে ৪ টি মামলার ওয়ারেন্ট ও ৯ টি মামলা রয়েছে। মিলনের পরিবার জানিয়েছে আটকের একদিন পর রহস্যজনক ভাবে অ¯্র ও গুলি উদ্ধার দেখাচ্ছে পুলিশ! এর আগেও পুলিশ অনেক সাজানো মামলা দিয়েছে বলে তার পরিবার জানায়। পুলিশের একটি সুত্র জানিয়েছে, যারা মিলনকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল তাদের নামেও একাধিক মামলা রয়েছে।
সাংবাদিক সন্মেলনে মিলনের পরিবার আরো জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা তাদের ১০/১২ টি পরিবার জিন্মী করে রেখেছে। তাদেরকে বাসা-বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। সন্ত্রাসীরা মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে খুন জখম করার হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের শিশুরাও বাড়ি থেকে বের হতে পাচ্ছে না। তারা এ সকল ঘটনার আইন প্রয়োগকারির সহযোগিতা চায়।
ঘটনা সম্পর্কে আহত মিলনের মা ফরিদা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, পুর্ব শত্রæতার জের ধরে আমার ছেলেকে সোমবার রাত ১২ টার দিকে তুলি নিয়ে যায় নিহত আজাদ শেখের স্ত্রী দিলরুবা, শেখ সাব্বির, আলম, মানিক, তুর্জ, দিনেশ, মান্নান, হান্নানসহ তার লোকজন। আকুয়ার কলাবাগান নামকস্থানে নিয়ে গিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টায় ব্যাপক মারধর চালায়।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে ইট দিয়ে পিটিয়ে দুই পায়ে মারাত্বক আঘাত করে। ছুরিকাঘাতে পা, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিদ্রযুক্ত জখম করে। আমার ছেলের চোখ উপরে ফেলার চেষ্টা চালায়। পুলিশ আমাদের অভিযোগ গ্রহন করেনি। ফলে আমাদের উপর অত্যাচার বেড়ে গেছে। অসহায়ের মত আতংকে জীবনযাপন করছি।
এলাকার সাধারন মানুষ জানিয়েছে, আজাদ শেখ খুন হওয়ার পর থেকে তার লালিত বাহিনীরা এলাকায় সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করছে। এখন এর বিরোধ চরম আকার ধারন করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রæত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করবে।


