স্টাফ রিপোটার।। জামালপুরের বকশীগঞ্জ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ভাড়ায় মটরসাইকেল চালক হত্যা মামলা(৩ জুলাই ২০১৮ইং) কে পূজি করে পূর্বের শত্রুতার জের ধরে দুই শিক্ষক সহ ১০জন কে মিথ্যা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। সঠিক তদন্তের দাবী জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
বকশীগঞ্জ উপজেলার মালিরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবু বক্কর নুরী (৫০) নামের এক ভাড়ায় মটরসাইকেল চালক কে ভাড়ার কথা বলে নিয়ে ২ জুলাই দিবাগত রাতে গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি টুংরাপাড়া ছোট ব্রিজ সংলগ্ন ইসলামপুর ঝগড়ারচর পাকা সড়কের পাশে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন ভিকটিমের স্ত্রী তাহমিনা বেগম ইসলামপুর থানায় ৩০২/৩৪ রুল ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বাদী তার লিখিত অভিযোগে বলেন, গত ২ জুলাই ২০১৮ইং তারিখে মালিরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মটর সাইকেল চালক আবু বক্কর নুরী আমার স্বামী খেতারচর বটতলা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে বেপারী কে নিয়ে ইসলামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তার সাথে পূর্বে ঝগড়া বিবাদের জের ধরে কু-মতলবকারী সে যাত্রী ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি টুংরাপাড়া ছোট ব্রিজ সংলগ্ন ইসলামপুর ঝগড়ারচর পাকা সড়কের পাশে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধে করে হত্যা করেছে বলে তিনি বেপারীকেই তার স্বামীর হত্যাকারী হিসেবে নিশ্চিত করে মামলা জবান বন্দী পেশ করেছেন। ৬ আগষ্ট ২০১৮ইং তারিখে এজাহার ভুক্ত আসামী মোঃ বেপারী (৪০) কে ইসলামপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।
মামলাটি কে ভিন্ন খাতে নিয়ে নিজের সার্থ হাসিলের জন্য ভিকটিমের আপন ভাগিনা আঃ হাকিম পূর্বে সংঘটিত জমি-জমা, ছাত্র-ছাত্রী বিহীন পরিত্যাক্ত এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও নির্বাচনী এবং কারেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে শালিশ বৈঠকে ব্যর্থ হয়ে শত্রুতার প্রতিশোধ নিতে দুই শিক্ষকসহ সন্দেহ ভাজন বিবাদী ১০ জনের নামের তালিকা করে তার মামাত ভাই হাকিম ভিকটিমের ছেলে তানভিরকে বাদী করে র্যাব ১৪ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আরও জানা যায় যে, বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগের আলোকে সরল-সহজ নির্দোষ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে গ্রামে আতংকের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই পুলিশি হয়রানী থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এখনও ৩ জন কারাগারে রয়েছে।
একদিকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সঠিক হত্যাকারীদের বিচার ব্যাবস্থা অন্যদিকে নিরিহ ব্যাক্তিরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।গ্রেফতার আসামীদের রিমান্ডে এনে নির্যাতন চালিয়ে আরোও কয়েক জনের নাম বলার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তারা নির্যাতন ও মারপিঠ থেকে বাঁচার তাগিদে অন্যান্যদের নাম বলতে বাধ্য হচ্ছে।
এলাকায় সরেজমিন ঘুরে আরও জানা যায়, ইতিপূর্বে গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ আনার ব্যাপারে গ্রামের প্রায় ৯০% মানুষ টাকা জমা দেয়। কিন্তু হাকিম ও মজিদ আলী একটি টাকাও না দিয়ে আরোও উল্টো এক লক্ষ টাকা দাবী করে শহিদুর মাস্টারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে গ্রাম্য শালিশে প্রমাণে হাকিম ও মজিদ আলী মিথ্যা প্রমাণিত হলে শত্রুতা আরোও বেড়ে যায় হাকিম ও মজিদের সাথে।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটির সঠিক তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার জামালপুর ও সহকারী পুলিশ সুপার ইসলামপুর সার্কেল বরাবর লিখত আবেদন করেছে এলাকাবাসীর পক্ষে মোঃ শহিদুর রহমান মাষ্টার তার উদ্দেশ্য গ্রামের সর্বগোষ্টীদের সাথে নিয়ে মিলেমিশে বসবাস করা আর হাকিম মজিদ তারা চায় বিভেদ সৃষ্টি করতে।
সন্দেহ ভাজন বিবাদীগণও ন্যায়-বিচারের পক্ষে তারা বলেন, আবু বক্কর নূরী চাচার আত্নীয় হিসেবে আমাদের আত্নীয় তার সাথে কারোও কোন বিবাদ মনোমালিন্য নেই। সে একজন সরল-সহজ নরম স্বভাবে ব্যক্তি তিনি মটর সাইকেল ভাড়ায় যাত্রী বহন করে তার জীবিকা নির্বাহ করেন। আইনের কাঠগড়ায় দাড় করানো প্রমাণপত্রসহ সকল মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
এলাকা সূত্রে জানা যায় ভিকটিমের মোবাইল ফোনসহ নাপিতেরচর গ্রামে আঃছালাম গেদা ও তার জামাই কালামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে ২দিনি পর তাদেরকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু এখানে ব্যক্তি প্রতিহিংসা, পূর্ব শত্রুতা ও পারিবারিক দন্ধ কলোহ সবগুলো ব্যতিরেখে প্রকৃত দোষিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করা সকলের কাম্য। প্রশাসনের নিকট কামনা কেহ খুন করে জেল খাটে আবার কেহ খুন না করেই জেল খাটে। এ বিষয়ে প্রমাণের ন্যায় দৃষ্টি কামনা করছে এলাকাবাসী।
র্যাব, সিআইডি ও গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে আইরমারী নতুনপাড়া গ্রামের ২শিক্ষকসহ অন্যান্য সন্দেহ ভাজন ১০ বিবাদীগণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মিথ্যা ষড় যন্ত্রের জাল থেকে নিঃসন্দেহে অব্যাহতি পাবে বলে গ্রামবাসীর বিশ্বাস।


