স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া ২৭ নং ওয়ার্ডে পূর্ব শত্রুতার জেরে পুলিশী অভিযানের আধা ঘন্টা আগে মিলন নামের এক যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ব্যাপক মারধর ও চোখ উপরে ফেলে হত্যার চেষ্টায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মুমূর্ষ অবস্থায় আহত মিলনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। মিলনের পরিবার জানিয়েছে, মিলনের শারিরিক অবস্থা মুমূর্ষ হলেও আহতকে সুচিকিৎসা না করিয়ে ছাড়পত্র নিয়ে আহতকে ফের থানায় নিয়ে গেছে। ঘটনার প্রায় ৭২ ঘন্টা অবহিত হলেও পরিবারের কাউকে এখনো দেখা করতে দেয়া হয়নি বলে তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ২৫ নভেম্বর মধ্য রাতে। এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে কোতোয়ালী মডেল থানার অন্তর্ভুক্ত ৩ নং ফাঁড়ির ইনচার্জ দুলাল আকন্দ বলেন, “আহত মিলনের নামে ৪টি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছে। সুস্থ হলে জেনে সব তথ্য জানাতে পারবো। আমি সম্প্রতি ৩ নং ফাঁড়িতে এসেছি, সবকিছুর সম্পর্কে অবগত নই।
আহত যুবক মিলনকে গ্রেফতারকারী এসআই ইমরান বলেন, “তার নামে হত্যাসহ ৪ টি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে এলাকায় যায় পুলিশ। তবে প্রায় একই সময় আহত মিলনের প্রতিপক্ষ নিহত আজাদ শেখের স্ত্রীসহ লোকজন তাকে ধরে মারধর করে। এতে মিলনের মাথায় ও শরীরে মারাত্বক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তাকে আহত অবস্থায় পুলিশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
তিনি আরও বলেন, পরের দিন ২৬ নভেম্বর ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলেও জানান তিনি।
ঘটনা সম্পর্কে আহত মিলনের মা ফরিদা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, পুর্ব শত্রæতার জের ধরে আমার ছেলেকে সোমবার রাত ১২ টার দিকে তুলি নিয়ে যায় নিহত আজাদ শেখের স্ত্রী দিলরুবা, শেখ সাব্বির, আলম, মানিক, তুর্জ, দিনেশ, মান্নান, হান্নানসহ তার লোকজন। আকুয়ার কলাবাগান নামকস্থানে নিয়ে গিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টায় ব্যাপক মারধর চালায়।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে ইট দিয়ে পিটিয়ে দুই পায়ে মারাত্বক আঘাত করে। ছুরিকাঘাতে পা, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিদ্রযুক্ত আঘাত করে। আমার ছেলের চোখ উপরে ফেলার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নং ওয়ার্ডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। শোনেছি এখন নাকি মিলনকে থানায় নিয়ে গেছে।
মিলনের স্ত্রী প্রিয়া জানান, আমাদেরকে দেখতে দিচ্ছেনা থানা পুলিশ। শোনেছি, তার অবস্থা খুব খারাপ।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে সরজমিনে আহত মিলনের বক্তব্য নিতে চাইলে পুলিশ জানায়,পুলিশ হেফাজতে আসামীর বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নেই। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মিলন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে।


