স্টাফ রিপোটারঃ ৮ টি মামলা মাথায় নিয়ে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজী করে আতংকের সৃষ্টি করে রেখেছে যুবদল নেতা সবুজ ও তার বাহিনী। শম্ভুগঞ্জে এখন এক ভয়ংকর নাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এতো সব মামলা মাথায় নিয়ে, শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে কোতোয়ালী যুবদলের সদস্য সবুজ মন্ডল এর নেতৃত্বে ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি ফুটিয়ে ফুটিয়ে তান্ডবনীলা চালায় শম্ভুগঞ্জ বাজারে কয়েকটি দোকানে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, ক্ষমতাশীন দলের এক নেতার আশ্রয় প্রশয়ে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
শম্ভুগঞ্জ বাজারে ব্যবসা করতে হলে দোকানীদের চাঁদা দিতে হবে সবুজকে। নইলে হুমকি ও ভাংচুর চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দোকান। এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে ঘটলেও ভয়ে কেউ টুশব্দ করতে চান না! ব্যবসায়ীদের পক্ষে এমন অভিযোগ করেছেন ময়মনসিংহ নগরীর শম্ভুগঞ্জ ৩৩ নং ওয়ার্ড মধ্য বাজারের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলার সময় অনেকে কান্নায় ভেংগে পড়েন। চাঁদা দিতে দিতে তারা অতিষ্ট। রাজনীতিতে বিএনপি’র ক্যাডার হিসেবে সবুজ গাড়ি ভাংচুর ও ত্রাস সৃষ্টি করার বহু অভিযোগ এবং মামলা রয়েছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং- ৮৭ তাং ১৮-১১-১২ ইং, ৮ তাং ৩-১-১৪ ইং, ৪৭ তাং ১৩-৮-১৫ ইং, ৪৬ তাং ১২-৯-১৫ ইং, ৬০ তাং ১৫-৯-১৫ ইং, ৫৯ তাং ২৩-৫-১৮ ইং, ১০৯ তাং ২৫-৯-১৮ইং ও ৫ তাং ১-৬-১৯ইং।
অভিযোগে জানা যায়, “কিছুদিন পূর্বে মিজানের চারটি দোকানের বিপরীতে ১ লাখ টাকা চাদাঁ দাবী করে সবুজ। সময় মতো চাদাঁর টাকা না দেয়ায় এই হামলার তান্ডবনীলার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগে রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানায়, “চাদাঁর টাকা না দেয়ায় আজ প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে অনেক দোকানঘর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীরা ক্যাশ বাক্স লুট করে হাজার হাজার টাকা নিয়ে যায়। ক্ষুদ্র এ ব্যবসার উপার্জিত টাকা নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। ওদের অত্যাচারে থেকে বাঁচতে দোকানের কর্মচারীরা পালিয়ে থাকতে হয়। অস্ত্রধারী এই চাদাঁবাজদের হুমকী ও অত্যাচারে বাজার ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ, কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না”।
শম্ভুগঞ্জ কাচাঁবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান এ ঘটনায় গত ৮ নভেম্বর রাতে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি শম্ভুগঞ্জ মধ্যবাজার এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে সবুজ মন্ডল (২৮), হানিফ (২৪), মোজাম্মেল (২৪), মোস্তফা(২২)সহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনের নাম উল্লেখ করেন।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও শম্ভুগঞ্জে চাঁদাবাজীর নিয়ন্ত্রন কোতোয়ালী যুবদল ক্যাডার সবুজ মন্ডল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের একাধিক হাইবিড নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে চলে তার এই আধিপত্য বাণিজ্য।
সূত্র জানায়, সবুজ মন্ডলের সন্ত্রাসী তান্ডবে এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তার নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম সম্পর্কে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন মাধ্যমে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও জানা যায়। সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের পুলিশ কর্তার সাথে রয়েছে তার রমরমা খাতির। এমন কথা জানিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও সাধারণ লোকজন।
আরও জানা গেছে, সবুজ মন্ডলের নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় দুটি বিস্ফোরক মামলাসহ ৮ টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও শম্ভুগঞ্জ গরু হাটে সরকারী সেটঘর অবৈধভাবে দখল করে সেখানে মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্ম করার অভিযোগ রয়েছে। সেই সেটঘরটিতে জুয়া, মাদক ও অস্ত্র রাখার আশ্রয়স্থল করা হয়েছে। স¤প্রীতি ময়মনসিংহ সদর সহকারী ভূমি কমিশনার সেটঘরটি ছাড়তে সবুজকে মৌখিকভাবে বললেও তা এখনও কার্যকর হয়নি।
শম্ভুগঞ্জের সন্ত্রাসী তান্ডবনীলা ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় গতকাল রাতে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ আছে, সন্ত্রাসী সবুজ বাহিনীকে ১ লাখ চাঁদা না দেওয়ায় দোকানঘরে তান্ডবনীলা চালায়।


