15.1 C
Munich
Tuesday, May 26, 2026

“কমিউনিটি পুলিশিং” জনগণ ও পুলিশের মাঝে সেতুবন্ধনঃ এসপি শাহ্ আবিদ হোসেন

Must read

সুমন ভৌমিকঃ বিগত দিনে ময়মনসিংহে চুরি, সন্ত্রাসী ও ছিনতাই বৃদ্ধি পায়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তৎকালীন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার আহমাদুল হক ১৯৯৪ সালে গঠন করেন টাউন ডিফেন্স পার্টি। এটি মূলত কমিউনিটি পুলিশিংয়ের একটি অংশ। সে সময় প্রথম শহরবাসীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পাড়া-মহল্লায় পাহাড়াদার নিয়োগ করা হয়। স্থানীয় জনগণ তাদের বেতন দিতেন। তাদের হাতে দেওয়া হয় টর্চলাইট ও বর্শা।

ওই সময়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম শহীদুল হক (সাবেক আইজিপি) কমিউনিটি পুলিশিং নিয়ে কাজ শুরু করেন। ময়মনসিংহ থেকে প্রাপ্ত কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ধারণা পরবর্তীতে গোটা দেশে এমনকি বিদেশেও ছড়িয়ে দেন একেএম শহীদুল হক। পুলিশের সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হককে বলা হয় দেশে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার রূপকার। বর্তমানে দেশব্যাপী ৬০ হাজার ৯১৮টি কমিটিতে ১১ লাখ ১৩ হাজার ৩২৮ জন কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্য কাজ করছেন।

কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০১৯ পালন উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ আয়োজনে সকাল ১০টায় রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সামনে থেকে বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি বিপিএম (বার)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডঃ জহিরুল হক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, পুলিশ সুপার মোঃ শাহ্ আবিদ হোসেন, রেঞ্জ অফিসের এসপি সৈয়দ হারুন অর রশিদ, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আমীর আহামদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন, নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি এডঃ আনিসুর রহমান, আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র ভৌমিক, এডঃ এএইচএম খালেকুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির, এস এ নেওয়াজী, আল আমিন, কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম, ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, ডিআই ওয়ান মোখলেছুর রহমান আকন্দ, টিআই কাজী আসাদুজামানসহ রেঞ্জ-জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে টাউন হল এডঃ তারেক স্মৃতি অডিটরিয়ামে গিয়ে শেষ হয় এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মোঃ শাহ্ আবিদ হোসেন বিপিএম (বার) এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি বিপিএম (বার)। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০১৯ ময়মনসিংহে পালিত হচ্ছে এবং একই সাথে সারা দেশে পালিত হচ্ছে। পুলিশের সাথে যেন জনগণের পার্থক্য না থাকে ও জনগণের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে অপরাধীকে দমন করা কমিউনিটি পুলিশিং এর কাজ।

তিনি আরো বলেন, ওয়ার্ড-ইউনিয়নে যারা মাদক, সন্ত্রাসী ও অপরাধের সাথে সংযুক্ত নেই এবং সাইবার অপরাধে জড়িত নেই, শুধু তারা কমিউনিটি পুলিশিং এ কাজ করে। এখানে সর্ব পর্যায়ের জনগণ কাজ করবে ও যারা তথ্য দিবে সকলের পরিচয় গোপন থাকবে। বিত্তশালীরা কমিউনিটি পুলিশে থাকলে অবশ্যই অপরাধ কমবে। সেই সাথে ইভটিজিং মুক্ত পরিবেশে কোমলমতি মেয়েরা যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবে।

এসময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সুন্দর দেশ গড়তে ও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হলে পুলিশকে তথ্য দিতে হবে এবং পুলিশ কাজ করবে।
এসময় তিনি আরো বলেন, থানায় মামলা, জিডি করতে এসে পুলিশের অন্যায় আচরণ, টাকা-পয়সা লেনদেন ও হয়রানীর কোন ঘটনা ঘটলে ওই থানায় দায়িত্বরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন। দ্রæত ওই পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সভা শুরুতে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও অনুষ্ঠানের মধ্যমনি সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোঃ শাহ্ আবিদ হোসেন বিপিএম (বার) বক্তব্য শুরুতে অনুপ্রেরণার বাতিঘর রেঞ্জ ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি সহ সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি কোতোয়ালী মডেল থানার কমিউনিটি পুলিশিং এর নেতৃবৃন্দকে স্বাগত ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, কমিউিনিটি পুলিশিং এবং ময়মনসিংহ, একটি অসাধারণ সম্পর্ক রয়েছে। এটি ময়মনসিংহে সর্ব প্রথম প্রচলন হয়েছিল এবং আপনারা ছিলেন এর সফল সারথী। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত, সামাজিক সমস্যা নিবারণ, অপরাধ নির্মূল, শান্তি-শৃংখলা রক্ষায় জনগণ ও পুলিশের মাঝে এক সেতুবন্ধনের সৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহের কমিউিনিটি পুলিশিং কার্যক্রম সারা বাংলাদেশে মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

এসময় তিনি বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং এমনই দর্শন যা প্রতিরোধমূলক। যার মাধ্যমে সাধারণ জনগণ পুলিশের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে ও সমাজে যে সমস্যা রয়েছে তার সমাধান করতে পারে। কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণ একসাথে কাজ করে, যার ফলে সমাজের সকল সমস্যা ও অপরাধ দূর হয়ে যায়।

বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডঃ জহিরুল হক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এহতেশামুল আলম, আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষ নারায়ন চন্দ্র ভৌমিক, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি আমীর আহম্মদ চৌধুরী, নাগরিক আন্দোলন সভপতি এডঃ আনিসুর রহমান, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন।

র‌্যালিতে পুলিশ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক , রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন। কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে রক্তদান কর্মসূচি, ডকুমেন্টারি ও কোরিয়গ্রাফ প্রদর্শন, প্রীতি বিতর্ক, প্রীতি ফুটবল খেলা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে জেলা পুলিশ ময়মনসিংহ। প্রীতি বিতর্ক, প্রীতি ফুটবল খেলা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

Latest article